‘হিন্দুত্ব’ এবার আন্তর্জাতিক! শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদের সঙ্গে মিশছে ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি, কেন?

গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে ডানপন্থী রাজনীতির চরিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একসময় যেখানে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদই ছিল মুখ্য, এখন সেই ডানপন্থী আন্দোলন ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী শক্তির সঙ্গে জোট বাঁধছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নতুন জোট আধুনিক ফ্যাসিবাদের সংজ্ঞাকেই পরিবর্তন করে দিচ্ছে।
এই জোটের মূল ভিত্তি হলো অভিন্ন শত্রু এবং মতাদর্শগত মিল। ইসলামবিদ্বেষ, ধর্মনিরপেক্ষতার বিরোধিতা এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মীয় বা জাতিগত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য—এই বিষয়গুলোই পশ্চিমের ডানপন্থী এবং ভারতের হিন্দুত্ববাদী আন্দোলনের মধ্যে গভীর সংযোগ তৈরি করেছে।
ঐতিহাসিক যোগসূত্র
এই সম্পর্ক নতুন নয়। ২০ শতকের গোড়ার দিকেই হিন্দুত্ব ও ইউরোপীয় ফ্যাসিবাদের মধ্যে ‘আর্য জাতি’র ধারণার ভিত্তিতে এক ভাবাদর্শগত সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছিল। সেই সময়ে সাভিত্রী দেবী মুখার্জি নামক এক লেখিকা হিন্দু মিস্টিসিজমকে নাৎসি বর্ণবাদী মতবাদের সঙ্গে মিলিয়ে এই সংযোগকে আরও মজবুত করেন।
সাম্প্রতিক সহযোগিতা
বর্তমানে এই মতাদর্শগত মিল নানা ধরনের সহযোগিতায় রূপ নিচ্ছে। নরওয়ের গণহত্যাকারী আন্ডার্স ব্রেইভিক তার ঘোষণাপত্রে হিন্দুত্বের প্রশংসা করেন। ডাচ ডানপন্থী নেতা গির্ট উইল্ডার্স প্রকাশ্যে বিজেপি নেত্রীর ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কনসারভেটিজম কনফারেন্সের মতো অনুষ্ঠানে হিন্দুত্বপন্থী নেতারা অংশ নিচ্ছেন।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পশ্চিমা ডানপন্থী রাজনীতিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি বাড়ছে। যুক্তরাজ্যের স্যুয়েলা ব্র্যাভারম্যান, আমেরিকার কাশ প্যাটেল এবং জার্মানির অলিস ভাইডেলের মতো ব্যক্তিরা জাতীয়তাবাদী এবং ইসলামবিদ্বেষী নীতি সমর্থন করে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী মহলে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করছেন।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই জোট শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদকে দুর্বল করছে না, বরং একটি কৌশলগত ব্যবস্থার মাধ্যমে হিন্দুত্ববাদকে আন্তর্জাতিক বৈধতা দিচ্ছে। প্রগতিশীল শক্তিরা যেখানে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদকে সরাসরি আক্রমণ করে, সেখানে হিন্দুত্ববাদের ব্যাপারে প্রায়ই নীরব থাকে। এর ফলে হিন্দুত্ববাদ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আরও বেশি গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।
এই নতুন ধরনের ফ্যাসিবাদী জোটের বিরুদ্ধে লড়াই এখন কেবল কোনো একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক সংগ্রামে পরিণত হয়েছে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে প্রান্তিক জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই এই নতুন ধরনের ফ্যাসিবাদী জোটের মোকাবিলা করার একমাত্র পথ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।