ভাতা ও প্রকল্পের নিয়মে বিরাট বদল! কারা পাবেন টাকা আর কাদের নাম বাদ? জানুন বড় আপডেট

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সরকারি ভাতা এবং কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির নিয়মে এসেছে বড়সড় পরিবর্তন। অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে চালু থাকা একাধিক জনপ্রিয় প্রকল্পের পাশাপাশি বর্তমান বিজেপি সরকারের আমলে চালু হয়েছে নতুন বেশ কিছু প্রকল্প। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বৃদ্ধ ভাতা, বিধবা ভাতা থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রী ও বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য নানা আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সব নাগরিক এই সমস্ত সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সমানভাবে পাবেন না, কারণ প্রতিটি প্রকল্পের ক্ষেত্রে পারিবারিক আয়ের ওপর নির্ভর করে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও যোগ্যতা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে রাজ্যে চালু রয়েছে স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ। উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের মেধাবী শিক্ষার্থীরা এই স্কলারশিপের মাধ্যমে প্রতি মাসে এক হাজার থেকে শুরু করে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন। তবে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক আয় আড়াই লক্ষ টাকার বেশি হওয়া চলবে না। অন্যদিকে, রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের দিকে নজর রেখে চালু করা হয়েছে যুবশক্তি ভরসা যোজনা। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য বেকার তরুণ-তরুণীরা প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে ভাতা পেয়ে থাকেন। তবে এই প্রকল্পের ক্ষেত্রেও পারিবারিক বার্ষিক আয়ের ঊর্ধ্বসীমা আড়াই লক্ষ টাকা ধার্য করা হয়েছে, এর বেশি আয় থাকলে প্রার্থীরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।

স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। রাজ্যবাসীর বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করতে চালু করা হয়েছে আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্য কার্ড। এই কার্ডের মাধ্যমে রোগীরা বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা লাভ করতে পারেন। তবে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্যও পারিবারিক বার্ষিক আয় আড়াই লক্ষ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। পাশাপাশি, যারা কোনো কারণে আয়ুষ্মান ভারতের আওতাভুক্ত নন, তাঁদের জন্য চালু করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা। এই বিমা প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে পরিবারের বার্ষিক আয় আট লক্ষ টাকার বেশি হওয়া যাবে না।

এছাড়াও, নতুন সরকারের আমলে চালু হয়েছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প এবং সেই সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে বৃদ্ধ ভাতা ও বিধবা ভাতার পরিমাণ। বর্তমানে বৃদ্ধ ও বিধবা ভাতার মাসিক পরিমাণ দেড় হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন হাজার টাকা করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট কঠোর আয়ের সীমা না থাকলেও বেশ কিছু স্পষ্ট শর্ত আরোপ করা হয়েছে। যেমন—পরিবারের কোনো সদস্যের যদি সরকারি চাকরি থাকে, কেউ যদি নিয়মিত আয়কর প্রদান করেন কিংবা সরকারের তরফ থেকে কোনো পেনশন পান, তবে তাঁরা এই সমস্ত প্রকল্পের আর্থিক সুবিধার আওতায় আসবেন না। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এবং সঠিক উপভোক্তাদের হাতে সাহায্য পৌঁছে দিতে এই নিয়মগুলি অত্যন্ত কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে।