অগস্টে জোড়া গ্রহণ আর শনির চালে ওলটপালট ভাগ্য! কোন ৩ রাশির জীবনে আসছে চরম বিপদ?

অগস্ট মাস (August 2026) জ্যোতিষশাস্ত্রের দিক থেকে রীতিমতো চমক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করতে চলেছে। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে মহাকাশে দেখা যাবে জোড়া গ্রহণ। এর পাশাপাশি রয়েছে কর্মফলদাতা শনিদেবের নক্ষত্র বদলের খেলা। সব মিলিয়ে এই মাসে মানবজীবন ও ১২টি রাশির জাতক-জাতিকার ওপর এর গভীর প্রভাব পড়তে চলেছে বলে মনে করছেন জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞরা।

আগামী ১২ অগস্ট, ২০২৬ আকাশে বছরের দ্বিতীয় সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। এটি একটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। ভারতীয় সময় অনুযায়ী এই গ্রহণ রাত ৯:০৪ মিনিটে শুরু হয়ে ১৩ অগস্ট ভোর ৪:২৫ মিনিটে শেষ হবে। যেহেতু এই সময়ে ভারতে গভীর রাত এবং সূর্য দিগন্তের নিচে অবস্থান করবে, তাই এই গ্রহণ ভারত থেকে দৃশ্যমান হবে না। ফলে এর জন্য কোনও পুজো বন্ধ রাখা বা সূতক কাল মানার প্রয়োজন নেই। এর ঠিক ১৬ দিন পর, অর্থাৎ আগামী ২৮ অগস্ট একটি আংশিক চন্দ্রগ্রহণ সংঘটিত হবে। জ্যোতিষশাস্ত্রের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাজাগতিক ঘটনা হলেও, টাইমস অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী এই চন্দ্রগ্রহণটিও ভারতে দৃশ্যমান নয়। ভারতে দৃশ্যমান না হওয়ায় সূতক কাল না মানলেও, জ্যোতিষশাস্ত্র মতে এই জোড়া গ্রহণের অশুভ প্রভাব ১২টি রাশির ওপরেই কমবেশি পড়তে পারে।

গ্রহণের এই জোড়া ধাক্কার মাঝেই আগামী ২০ অগস্ট, ২০২৬ নিজের নক্ষত্র পরিবর্তন করতে চলেছেন ন্যায়ের দেবতা শনিদেব। দৃক পঞ্চাঙ্গ অনুযায়ী, শনিদেব এই দিনে রেবতী নক্ষত্রের প্রথম চরণে প্রবেশ করবেন। জ্যোতিষীদের মতে, শনির এই রাশি পরিবর্তনের ফলে কর্কট, কন্যা ও মীন রাশির জাতক-জাতিকার এই সময়টায় অত্যন্ত সাবধানে চলা উচিত। এই রাশির ব্যক্তিদের অফিসে সহকর্মী বা পরিবারে কারোর সঙ্গে অকারণে বাকবিতণ্ডা বা ঝগড়া এড়িয়ে চলতে হবে। পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নতুবা জমানো সঞ্চিত অর্থ হঠাৎ করেই খরচ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর পাশাপাশি, যাঁদের জন্মছকে কেতু গ্রহ দুর্বল অবস্থায় রয়েছে, তাঁদেরও এই সময়টায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। কোষ্ঠীতে কেতু দুর্বল হলে মানুষের মনে বিনা কারণে ভীতি বা অবসাদ তৈরি হতে পারে, শারীরিক জটিলতা যেমন জয়েন্টে ব্যথা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং আচমকা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। তবে এই অশুভ পরিস্থিতি দেখে ঘাবড়ে যাওয়ার কোনও কারণ নেই। প্রাচীন জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, কিছু সহজ ও সরল নিয়ম মেনে চললে এই সমস্ত অশুভ প্রভাব ও বিপদ সহজেই এড়ানো সম্ভব। প্রতি শনিবারে নিয়ম করে বজরংবলী বা শনিদেবের পুজো করুন, সাধ্যমতো অনাথ বা দরিদ্র মানুষকে সাহায্য করুন এবং রাস্তার কুকুরদের বিস্কুট বা রুটি খাওয়ালে শনি ও কেতু—উভয় গ্রহের অশুভ প্রভাবই অনেকটাই কেটে যায়।