হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরে বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ এখন তুঙ্গে। এই কেন্দ্রের জয় নিশ্চিত করতে এবং সংগঠনকে আরও মজবুত করতে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নামছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় সূত্রে খবর, নির্বাচনের আগে শেষ দফার প্রচারের জন্য একগুচ্ছ সূচি তৈরি করা হয়েছে।
আগামী ১৯ তারিখ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টানা কর্মসূচি: আগামী ১৯ তারিখ মহারাষ্ট্র নিবাস হলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে চলেছে। মূলত ভবানীপুরের প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষের মন জয় করতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ। এর পাশাপাশি ভবানীপুরের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে জোরকদমে চলবে জনসংযোগ এবং প্রচার অভিযান।
কর্মসূচির ক্যালেন্ডার:
২০ তারিখ: ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে জনসভা।
২৪ থেকে ২৬ তারিখ: টানা তিন দিন বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক কর্মসূচি।
২৭ তারিখ: প্রচারের শেষ লগ্নে এক বিশাল ‘মেগা রোড শো’। একেই তৃণমূলের শেষ দফার বড় শক্তির মহড়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মাঠে নেমেছেন শীর্ষ নেতৃত্ব: শুধু কর্মসূচি নয়, ভবানীপুর জয় নিশ্চিত করতে দিনরাত এক করছেন তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতারা। সুব্রত বক্সি, ফিরহাদ হাকিম, জয়প্রকাশ মজুমদার এবং দেবাশিস কুমারের মতো নেতারা প্রতিদিন স্থানীয় কাউন্সিলরদের সাথে নিয়ে অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন। রাজ্য সরকারের গত কয়েবছরের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তাঁরা সরাসরি তুলে ধরছেন সাধারণ মানুষের দরবারে।
কেন ভবানীপুরকে ‘মিনি ইন্ডিয়া’ বলা হচ্ছে? তৃণমূল শিবিরের দাবি, ভবানীপুর আসলে একটি ‘মিনি ভারতবর্ষ’। এখানে হিন্দু, মুসলিম, শিখ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মানুষ থেকে শুরু করে গুজরাটি, পাঞ্জাবি ও বাঙালি—সবাই মিলেমিশে বসবাস করেন। এই বহুত্ববাদী সংস্কৃতি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকেই এবার ভোটের মূল অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে ঘাসফুল শিবির।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের প্রাক্কালে ভবানীপুরের রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বাংলা।





