“আমি এখন জ্যান্ত লাশ!” ৯২% নম্বর পেয়েও কেন আত্মঘাতী ১৬ বছরের মেধাবী ছাত্রী? কানপুরের ঘটনায় শিউরে উঠছে দেশ

সিবিএসই দশম শ্রেণির পরীক্ষায় ৯২ শতাংশ নম্বর—যেকোনো পড়ুয়ার কাছেই এটি স্বপ্নের মতো। কিন্তু কানপুরের পাঙ্কি এলাকার ১৬ বছরের মেধাবী ছাত্রী বৈশালী সিংয়ের কাছে এই সাফল্যও যেন ছিল বিষাদের নামান্তর। রেজাল্ট বেরোনোর ঠিক পরের দিনই নিজের ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হলো এই কিশোরী। মৃত্যুর আগে বন্ধুদের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো একটি ভয়েস মেসেজ এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল, যেখানে বৈশালী আর্তনাদ করে বলেছে, “আমি আর বাঁচতে পারছি না; আমি একটা জ্যান্ত লাশে পরিণত হয়েছি।”

নেপথ্যে কি শিক্ষকদের মানসিক হেনস্থা?
বৈশালীর এই চরম সিদ্ধান্তের পেছনে আরমাপুর কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন তাঁর ভাই প্রিন্স। তাঁর দাবি, বৈশালীকে প্রতিনিয়ত তাঁর (দাদার) সাথে তুলনা করে বিদ্রূপ করতেন শিক্ষকরা। প্রিন্স একাদশ শ্রেণিতে কম নম্বর পাওয়ায় স্কুল ছেড়ে দিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই রেশ ধরেই শিক্ষকরা বৈশালীকে বলতেন, “তোমার ভাই অলস আর ফাঁকিবাজ ছিল, তুমিও কি ওর মতো হবে?” মেধাবী ছাত্রীটি এই কটাক্ষ সহ্য করতে না পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। ভালো নম্বর পেয়ে নিজেকে প্রমাণ করার পরেই সে আত্মহননের পথ বেছে নেয়।

পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া:
দুই বছর আগে বাবা বীরেন্দ্র সিংকে হারিয়েছিল বৈশালী। মা একটি কাপড়ের শোরুমে কাজ করে অনেক কষ্টে সংসার চালাতেন। বড় আশা ছিল মেয়েকে নিয়ে, কিন্তু এক নিমেষেই সব শেষ হয়ে গেল। পাঙ্কি থানার পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।

তদন্তে পুলিশ:
পাঙ্কি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোজ সিং ভাদোরিয়া জানিয়েছেন, ছাত্রীর মোবাইল ফোনটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ওই ভয়েস রেকর্ডিংয়ে আরও কী কী তথ্য রয়েছে এবং শিক্ষকদের ভূমিকা ঠিক কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy