নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে ধুন্ধুমার! মোদীকে চ্যালেঞ্জ প্রিয়াঙ্কার— “সোমবার সংসদ ডাকুন, দেখি কে নারী বিরোধী”

ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক নাটকীয়তার সাক্ষী থাকল দেশ। লোকসভার বিশেষ অধিবেশনে সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল পাস করাতে ব্যর্থ হলো মোদী সরকার। আর এই পরাজয়ের পরেই নারী সংরক্ষণ ইস্যুতে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরা। শনিবার সকালে কেন্দ্রকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি বলেন, “নাটক বন্ধ করে সোমবারই পুরনো বিলটি সংসদে আনুন। আমরা সবাই সমর্থন দেব। দেখা যাবে আসল নারী-বিরোধী কে!”

ভোটাভুটিতে হারল সরকার:
শুক্রবার লোকসভায় ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পর ভোটাভুটি হয়। সরকার প্রস্তাবিত এই বিলে সংসদের আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার সংস্থান ছিল। উপস্থিত ৫২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২৯৮ জন পক্ষে এবং ২৩০ জন বিপক্ষে ভোট দেন। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ৩৫২টি ভোটের প্রয়োজন থাকলেও, ৫৪ ভোটের ব্যবধানে বিলটি পরাজিত হয়। বিরোধীদের দাবি, নারী সংরক্ষণের আড়ালে সরকার আদতে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিতে চেয়েছিল।

মোদীকে চিঠির প্রস্তুতি বিরোধীদের:
সূত্র মারফত জানা গেছে, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, পুরনো নারী সংরক্ষণ বিল অবিলম্বে কার্যকরের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একটি চিঠি লেখা হবে। সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে এই জোটে ঐক্যবদ্ধ সংকল্প নেওয়া হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ২০১১ সালের আদমশুমারি এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণের শর্ত চাপিয়ে মহিলাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রিয়াঙ্কার তোপ:
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী লিখেছেন, “নিজেদের ত্রাণকর্তা হিসেবে জাহির করার প্রধানমন্ত্রীর অন্তঃসারশূন্য প্রচেষ্টা আজ ব্যর্থ হয়েছে। বিরোধীরা আজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র রক্ষা করেছে। ভারতের কণ্ঠস্বর দমনের দিন শেষ হলো।” আজ দুপুর ১২টায় একটি মেগা সংবাদ সম্মেলনে পরবর্তী রণকৌশল জানাবে কংগ্রেস। সব মিলিয়ে, ২০ এপ্রিল সোমবার সংসদ ফের বসে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।