ব্রেকফাস্টের পরই নীরব ঘর! কুলতলিতে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী, কেন চরম সিদ্ধান্ত নিল তেরো বছরের স্কুল পড়ুয়া রিয়া?

কুলতলি থানার পশ্চিম দেবীপুর এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। টিউশন থেকে ফিরে মা-বাবার সঙ্গে খাওয়াদাওয়ার পর নিজের ঘরে বিশ্রাম নিতে গিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিল বছর তেরোর এক স্কুল পড়ুয়া।

মৃতা ছাত্রীর নাম রিয়া দাস, সে দেবীপুর এইচএম বিদ্যাপীঠের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে টিউশন সেরে বাড়ি ফেরে রিয়া এবং স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে খাওয়াদাওয়া করে। এরপর নিজের ঘরে বিশ্রাম নিতে যায়।

বেশ কিছুক্ষণ কেটে যাওয়ার পরও তার কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে সন্দেহ হয় পরিবারের সদস্যদের। ঘরের দরজা খুলতেই চোখ কপালে ওঠে— ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায় রিয়াকে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে উদ্ধার করে কুলতলি ব্লক গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্য
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় নেমে আসে গভীর শোক। পাড়ার এতটুকু মেয়ের এমন পরিণতিতে হতবাক প্রতিবেশীরা। কী এমন কারণ যে ছোট্ট মেয়েটি এই চরম সিদ্ধান্ত নিল, তা বুঝে উঠতে পারছেন না কেউই।

পুলিশের তৎপরতা: পুলিশ সূত্রে খবর, দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কুলতলি থানার পুলিশ। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটাতে পারে এই স্কুল পড়ুয়া, তা জানতে পরিবার এবং বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে পুলিশ।

স্কুলে শোকের আবহ: রিয়ার মৃত্যু ঘিরে পরিবারের পাশাপাশি তার স্কুল দেবীপুর এইচএম বিদ্যাপীঠেও শোকের আবহ। শিক্ষক-বন্ধুরা কেউই তার হঠাৎ চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না।

রিয়ার মতো অল্পবয়সী ছাত্রীর এমন পরিণতি শুধুমাত্র তার পরিবারের নয়, সমাজকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে— কেন এত কম বয়সেই ভেঙে পড়ছে আমাদের সন্তানেরা?