ব্রিটেনে ফের জাতিগত বিদ্বেষের শিকার ভারতীয় তরুণী! ওয়ালসালে পাঞ্জাবি মহিলাকে ‘নির্মম ধর্ষণ’, তোলপাড় ব্রিটিশ রাজনীতি

আবারও জাতিগত বিদ্বেষের শিকার হলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক তরুণী। যুক্তরাজ্যের উত্তরাঞ্চলে ২০ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের মতে, জাতিগত পরিচয়ের কারণেই ওই নারীর উপর হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ব্রিটিশ রাজনীতিকরা।

ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের সূত্রে জানা গিয়েছে, ওয়ালসলের পার্ক হল এলাকায় শনিবার সন্ধ্যায় রাস্তায় এক তরুণীকে বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তরুণী জানান, জাতপাত তুলে তাঁকে নির্মমভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, নির্যাতিতা একজন পাঞ্জাবি মহিলা ছিলেন।

পুলিশের তৎপরতা ও তদন্তের আহ্বান
সিসিটিভি ফুটেজে এক শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তিকে এই কাজ করতে দেখা গেছে এবং তাঁকে খুঁজে পেতে ইতিমধ্যেই তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের ডিটেকটিভ সুপারিনটেনডেন্ট (ডিএস) রোনান টাইর রবিবার বলেছেন, “এটি একজন তরুণীর উপর একেবারেই ভয়াবহ আক্রমণ ছিল, এবং আমরা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।”

তিনি জনসাধারণকে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “আমরা সেই সময় এলাকায় কোনও ব্যক্তিকে সন্দেহজনক আচরণ করতে দেখেছেন এমন কারও কাছ থেকে তথ্য জানতে চাইছি। হয়তো আপনার কাছে ড্যাশক্যামের ফুটেজ আছে, অথবা এমন সিসিটিভি আছে যা আমরা এখনও উদ্ধার করতে পারিনি। আপনার তথ্য আমাদের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে।” ডিএস টাইর তাঁর বিবৃতিতে আপাতত এই ঘটনাকে অন্য কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করছেন না।

সংসদ সদস্যের তীব্র নিন্দা
এই জঘন্য ঘটনাটি বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ রাজনীতিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কভেন্ট্রি সাউথের সংসদ সদস্য (এমপি) জারাহ সুলতানা এক্স (X)-এ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন।

তিনি লেখেন, “শনিবার, ওয়ালসালে বর্ণবাদী হামলায় পাঞ্জাবি বংশোদ্ভূত এক মহিলা ধর্ষিত হন। গত মাসে, ওল্ডবারিতে বর্ণবাদী হামলায় একজন শিখ মহিলা ধর্ষিত হয়েছিলেন। এই ভয়াবহ আক্রমণগুলি দেখায় যে কীভাবে ফ্যাসিবাদ এবং ঘৃণার উত্থানের ফলে বর্ণবাদ এবং নারী-বিদ্বেষ একে অপরকে পোষণ করে।” তিনি সাম্য, ন্যায়বিচার ও সংহতির উপর নির্মিত সমাজের জন্য লড়াই করার ডাক দেন।

ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির এমপি প্রীত কৌর গিল এই ঘটনাটিকে ‘গভীরভাবে মর্মান্তিক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।