“ব্যাট হাতে ফ্লপ, বল হাতেই মহাচমক!”-জোড়া উইকেট তুলে নজির গড়ল বৈভব সূর্যবংশী!

বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত বিসিসিআই-এর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে আয়োজিত দলীপ ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে ফের একবার শিরোনামে উঠে এসেছে ভারতের ক্রিকেট মহলের অন্যতম চর্চিত নাম—১৫ বছরের তরুণ তুর্কি বৈভব সূর্যবংশী। টুর্নামেন্টের অভিষেকে লাল বলের ক্রিকেটে ব্যাট হাতে নিজের প্রতিভার সুবিচার করতে না পেরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে। মাত্র ৮ রান করেই সাজঘরে ফিরে যেতে হয়েছিল এই উদীয়মান তারকাকে। তবে নিজের এই প্রাথমিক ব্যর্থতাকে খুব দ্রুতই পিছনে ফেলে দিলেন তিনি, আর তা করলেন একেবারে বল হাতে ভেলকি দেখিয়ে। নর্থ-ইস্ট জ়োনের বিরুদ্ধে চলা এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজের বোলিং ভেলকিতে গোটা ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিল এই কিশোর।

ম্যাচের হাইভোল্টেজ মুহূর্তে বৈভবের ম্যাজিক দেখা যায় নর্থ-ইস্ট জ়োনের ইনিংসের ২৮তম ওভারে। ওভারের ঠিক দ্বিতীয় বলেই জ্বলে ওঠে সে। অফস্টাম্পের খানিকটা বাইরে থ্রি-কোয়ার্টার লেংথে নিখুঁত ডেলিভারি করেন বৈভব। বলের সুইং ও গতি বুঝতে সম্পূর্ণ ভুল করেন ব্যাটার কিষাণ লিংডো। ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে বড় শট হাঁকানোর প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন তিনি। ব্যাটের কানায় লেগে বল সোজা উড়ে যায় কভার অঞ্চলের দিকে। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডার ডেনিশ দাস কোনো ভুল না করে এক চমৎকার ক্যাচ লুফে নেন, যার ফলে সাজঘরে ফিরতে বাধ্য হন লিংডো।

তবে এই সাফল্যেই থামেনি বৈভবের তোপ। ওই ওভারেরই পঞ্চম বলে আরও একটি মারাত্মক আঘাত হানে এই তরুণ বোলার। এ যাত্রায় তার নিখুঁত শিকার হন নর্থ-ইস্ট জ়োনের ব্যাটার ইমলিওয়াতি লেমতুর। অফ স্টাম্পের যথোপযুক্ত লেংথে বল রেখে লেমতুরকে ডিফেন্ড করতে বাধ্য করে বৈভব। বল ব্যাটের বাইরের কিনারায় লেগে বিদ্যুৎ গতিতে ছিটকে চলে যায় উইকেটকিপার ঈশান কিষাণের গ্লাভসে। ঈশান এক দুর্দান্ত রিফ্লেক্স ক্যাচ ধরে সেই উইকেট পকেটে পুরে নেন। মাত্র চার বলের এই সংক্ষিপ্ত ব্যবধানে পরপর দুই উইকেট তুলে নিয়ে নর্থ-ইস্ট জ়োনের ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয় বৈভব, যার ফলে দলের অন্দরে নেমে আসে গভীর সংকট।

ম্যাচের প্রেক্ষাপটে বলতে গেলে, দলীপ ট্রফিতে লাল বলের ক্রিকেটে সহ-অধিনায়ক হিসেবে নিজের অভিষেক ম্যাচে ব্যাট হাতে নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি বৈভব। মাত্র ৬ বল খেলে মাত্র ৮ রান সংগ্রহ করেই তাকে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয়েছিল। যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিস্তর আলোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু বল হাতে তার এই দারুণ কামব্যাক সমস্ত সমালোচনার যোগ্য জবাব দিয়েছে। যদিও এই ম্যাচে দলগত পারফরম্যান্সের সুবাদে নর্থ-ইস্ট জ়োন দল ইনিংস ব্যবধানে হারের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে, তবুও ১৫ বছরের এই ক্রিকেটারের অলরাউন্ড মেজাজ এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর জেদ প্রমাণ করে দিল যে দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এই তরুণ তুর্কি।