আপৎকালীন গাড়ির এই অপব্যবহার কেন? সিংরৌলিতে সরকারি সম্পদের অপব্যবহার নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক শোরগোল।

মধ্যপ্রদেশের সিংরৌলিতে পৌরনিগমের ফায়ার ব্রিগেডের জল দিয়ে বিজেপি বিধায়ক রামনিবাস শাহের গাড়ি ধোয়ার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের বেগে ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে, ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ির পাইপ থেকে জলের ধারা ছুটিয়ে একটি বিলাসবহুল গাড়ি পরিষ্কার করা হচ্ছে এবং সেকাজে নিয়োজিত রয়েছেন দুই কর্মী। বিভিন্ন মহলের দাবি অনুযায়ী, এই ঘটনাটি ঘটেছে পৌরনিগমের কমিশনার সবিতা প্রধানের সরকারি বাসভবনের ঠিক বাইরে। সরকারি ও আপৎকালীন পরিষেবায় ব্যবহৃত সম্পদ এভাবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসতেই স্থানীয় স্তরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা যাচাই না হলেও তাতে দেখা যায় যে, ফায়ার ব্রিগেডের মতো একটি জরুরি সেবামূলক গাড়ি থেকে পাইপ বের করে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি পরিষ্কার করা হচ্ছে, আর পাশে অন্য এক ব্যক্তি তা পরিষ্কার করছেন। ঘটনাটি মঙ্গলবার ঘটেছে বলে দাবি করা হলেও এর কোনো আনুষ্ঠানিক বা স্বতন্ত্র প্রমাণ এখনও মেলেনি।
যদি এই ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—আপৎকালীন পরিসেবার জন্য নির্ধারিত ফায়ার ব্রিগেডের গাড়িটি কোন বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হলো? ফায়ার ব্রিগেডের প্রাথমিক ও মূল দায়িত্ব হলো যেকোনো অগ্নিকাণ্ড বা জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করা। ফলে এই ধরনের সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় পৌরনিগম প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য সামনে আনা। শুধু ভিডিওর উপস্থিতি নয়, এখানে আসল প্রশ্ন হল প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে। কার নির্দেশ বা অনুমোদনে ফায়ার ব্রিগেডের গাড়িটি বিধায়কের গাড়ি ধুতে পৌঁছেছিল? পাশাপাশি এই প্রশ্নও জোরালো হচ্ছে যে, একজন বিধায়কের গাড়ি কেন পৌরনিগমের কমিশনারের সরকারি বাসভবনে উপস্থিত ছিল।
কমিশনারের মন্তব্য মেলেনি, বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ অসম্ভব
এই পুরো ঘটনা ও ফায়ার ব্রিগেডের অপব্যবহারের বিষয়ে পৌরনিগম কমিশনার সবিতা প্রধানের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ‘এই বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না।’ কমিশনারের এমন সংক্ষিপ্ত ও এড়িয়ে যাওয়ার মতো উত্তরে জনমনে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যদি সরকারি সম্পদের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে হয়ে থাকে, তবে তা নিয়ে তথ্য প্রকাশ করতে এত অনীহা কেন?
অন্যদিকে, এই বিষয়ে বিধায়ক রামনিবাস শাহের মতামত নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সবচেয়ে বড় এবং গুরুতর প্রশ্ন হলো, পৌরনিগমের ফায়ার ব্রিগেড গাড়িটি কার নির্দেশে কমিশনারের বাসভবনে হাজির হয়েছিল? এর জন্য কি কোনো লিখিত অনুমতি নেওয়া হয়েছিল? যদি অনুমতি থেকে থাকে, তবে কোন আধিকারিক সেই নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং সরকারি সম্পদ ব্যবহারের এই খরচ কোন তহবিল থেকে বহন করা হচ্ছে—এই সমস্ত প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে সাধারণ মানুষ।