দলীপ ট্রফিতে ইতিহাস! সেমিফাইনালে বৈভব সূর্যবংশীর দল, নর্থ ইস্ট জোনকে উড়িয়ে দিল ইস্ট জোন

ভারতের তরুণ সেনসেশন বৈভব সূর্যবংশীর নেতৃত্বাধীন ইস্ট জোন দল দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে দলীপ ট্রফির সেমিফাইনালে পাকা জায়গা করে নিয়েছে। ব্যাঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত হওয়া এই হাই-ভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে ইস্ট জোন প্রতিপক্ষ নর্থ ইস্ট জোনকে এক ইনিংস এবং ২১০ রানের বিশাল ব্যবধানে লজ্জার হার উপহার দিয়েছে। দলীপ ট্রফির এই টুর্নামেন্টের জন্য বৈভব সূর্যবংশীকে ইস্ট জোনের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, রেড বল বা লাল বলের ক্রিকেটে সহ-অধিনায়ক হিসেবে এটিই বৈভবের প্রথম ঐতিহাসিক জয়। দলীপ ট্রফিতে এটি তাঁর অভিষেক ম্যাচ হওয়ায় এই জয় তরুণ তুর্কি এবং পুরো দলের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গর্বের হয়ে উঠেছে।
প্রথম ইনিংসে পাহাড়প্রমাণ ৪৬৭ রান
কোয়ার্টার ফাইনালের এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ইস্ট জোন এবং প্রথম ইনিংসে তারা বিশাল স্কোর হিসেবে ৪৬৭ রান বোর্ডে তোলে। দলের হয়ে অসাধারণ ব্যাটিং প্রদর্শনী করেন সুদীপ কুমার ঘারামি, যিনি ১৪৬ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন। পাশাপাশি, শাহবাজ আহমেদও দুর্দান্ত ব্যাট করে ১৬৭ রানের এক চমৎকার ও শতরানের ইনিংস উপহার দেন। তবে সবার চোখ ছিল তরুণ তারকা বৈভব সূর্যবংশীর ওপর, কিন্তু দলীপ ট্রফির অভিষেক ম্যাচে তিনি ব্যাট হাতে মাত্র ৮ রান করেই প্যাভিলিয়নে ফিরে যান, যা তাঁর ভক্তদের কিছুটা নিরাশ করে।
বিপর্যয়ের মুখে নর্থ ইস্ট জোনের ব্যাটিং লাইনআপ
ইস্ট জোনের বিশাল রান পাহাড়ের জবাবে ব্যাট করতে নেমে নর্থ ইস্ট জোনের ব্যাটাররা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হন। প্রথম ইনিংসে তাদের পুরো দল মাত্র ১১১ রানে গুটিয়ে যায় এবং এর ফলে তারা ফলোঅন এড়াতে পারেনি। দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকলেও নর্থ ইস্ট জোনের ব্যাটাররা আবারও হতাশ করেন এবং মাত্র ১৪৬ রানেই তাদের সমস্ত উইকেট হারিয়ে বসে। এর ফলে ইস্ট জোন দ্বিতীয় ইনিংসে আর ব্যাট করার প্রয়োজন না পড়েই ইনিংস ও বিশাল রানে ম্যাচ নিজেদের মুঠোয় পুরে নেয়।
বল হাতে ভেলকি দেখালেন বৈভব সূর্যবংশী
ব্যাটে রান না পাওয়ার আক্ষেপ বৈভব সূর্যবংশী বল হাতে দারুণভাবে পুষিয়ে দেন। নর্থ ইস্ট জোনের দ্বিতীয় ইনিংসে পড়া ১০ উইকেটের মধ্যে বৈভব নিজেই শিকার করেন গুরুত্বপূর্ণ ২টি উইকেট। ব্যাট হাতে ব্যর্থ হওয়ায় হতাশ ভক্তদের তিনি নিজের দুর্দান্ত বোলিং জাদু দিয়ে খুশি করার সুযোগ করে দেন। বৈভব মাত্র ৩ ওভার বল করে মাত্র ১১ রান খরচ করে এই জোড়া শিকার পূর্ণ করেন। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি এই দুটি উইকেটই মাত্র এক ওভারের ব্যবধানে তুলে নিয়ে নিজের বোলিং প্রতিভার অনন্য স্বাক্ষর রাখেন।
কবে অনুষ্ঠিত হবে মহা-সেমিফাইনাল?
নর্থ ইস্ট জোনকে একতরফাভাবে হারিয়ে দলীপ ট্রফির সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার পর এবার ইস্ট জোনের পরবর্তী লড়াইয়ের অপেক্ষা। সেমিফাইনালে তাদের মুখোমুখি হতে পারে শক্তিশালী সেন্ট্রাল জোন দল। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে দলীপ ট্রফির হাই-ভোল্টেজ সেমিফাইনাল ম্যাচটি শুরু হবে, যেখানে বৈভব ও তাঁর দল ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।