ব্যাংককের পাব-এ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেল ২৭ জনের, আতঙ্ক ছড়ালো চারদিকে

মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী রইল ব্যাংকক। রবিবার গভীর রাতে থাইল্যান্ডের রাজধানীর উত্তর দিকে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় পাবে আগুন লেগে প্রাণ হারালেন কমপক্ষে ২৭ জন। ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কীভাবে ঘটল বিপর্যয়? স্থানীয় দমকল সূত্রে খবর, রবিবার মধ্যরাতে পাবটিতে আগুন লাগে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংগীতশিল্পীদের বয়ান অনুযায়ী, হঠাৎই মঞ্চের পাশে থাকা একটি সার্কিট ব্রেকার থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং এরপরই একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় পাবটির ভেতরে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।

দমকলকর্মীদের অনুমান, আগুনের গ্রাসে পড়ে পালানোর পথ না পাওয়ায় অনেকেই টয়লেটের দিকে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখান থেকেই বেশ কয়েকটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাইরে বের হওয়ার কোনো কার্যকর রাস্তা না থাকায় আর্তনাদ করতে করতে অনেকেরই মৃত্যু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পাবের জানালা দিয়ে প্রাণ বাঁচাতে মানুষজন ঝাঁপ দিচ্ছেন।

তদন্তে প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। মৃতের সংখ্যা ২৭ হলেও আহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঠিক কী কারণে এই বিস্ফোরণ ও আগুন, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।

পুরানো ক্ষত ও গাফিলতি ব্যাংককের নাইটক্লাব ও পাবগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। এর আগে ২০২২ সালে একটি মিউজিক পাবে অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি নববর্ষের রাতে একটি নাইটক্লাবে আতশবাজির আগুন থেকে ঘটা অগ্নিকাণ্ডে ৬৬ জনের মৃত্যু ও ২০০ জন জখম হওয়ার মতো ভয়াবহ স্মৃতি এখনও টাটকা। বারবার এমন দুর্ঘটনা সত্ত্বেও পাবগুলোর অগ্নি-সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কেন কোনো কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দানা বাঁধছে।