শুরু হতে চলেছে পবিত্র চাতুর্মাস! ২৫ জুলাই থেকে চার মাস বন্ধ থাকবে শুভ কাজ, জানুন এর পেছনের কারণ

সনাতন ধর্মে চাতুর্মাসকে অত্যন্ত পবিত্র এবং আধ্যাত্মিক সাধনার শ্রেষ্ঠ সময় হিসেবে গণ্য করা হয়। পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ২৫ জুলাই ২০২৬, হরিশয়নী একাদশীর দিন থেকে চাতুর্মাস শুরু হতে চলেছে। হিন্দু শাস্ত্র মতে, এই দিন ভগবান বিষ্ণু ক্ষীরসাগরে যোগনিদ্রায় প্রবেশ করেন এবং পরবর্তী চার মাস তিনি গভীর বিশ্রাম গ্রহণ করেন। এই সময়কালটি ২০ নভেম্বর ২০২৬, দেবোত্থান একাদশী পর্যন্ত স্থায়ী হবে। এই চার মাস ধরে বিবাহ, গৃহপ্রবেশ, মুণ্ডনসহ যাবতীয় শুভ অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয়।

চাতুর্মাসের ধর্মীয় প্রেক্ষাপট ও কারণ:
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ অনুসারে, দেবী যোগনিদ্রার কঠোর তপস্যায় তুষ্ট হয়ে ভগবান বিষ্ণু তাঁকে প্রতি বছর চার মাসের বিশ্রাম দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এই সময়কালটিই চাতুর্মাস হিসেবে পরিচিত। বিশ্বাস করা হয়, বিষ্ণুর এই নিদ্রাকালীন সময়ে মহাবিশ্বের সৃষ্টির দায়িত্ব থাকে ভগবান শিবের ওপর। এই কারণেই এই সময়টি আত্মসংযম এবং কঠোর তপস্যার জন্য উপযুক্ত।

বিভিন্ন ধর্মের ঐতিহ্যে চাতুর্মাস:
চাতুর্মাসের গুরুত্ব কেবল সনাতন ধর্মেই নয়, বরং জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মের ঐতিহ্যেও সমানভাবে বিদ্যমান। জৈনধর্মে একে ‘চৌমাসা’ বলা হয়। অহিংসার আদর্শ মেনে বর্ষাকালে অণুজীবদের রক্ষা করার উদ্দেশ্যে জৈন ভিক্ষুরা এই চার মাস এক স্থানে অবস্থান করেন। একইভাবে বৌদ্ধধর্মে একে ‘বর্ষাবাস’ বলা হয়, যেখানে ভিক্ষুরা মঠে থেকে ধ্যান ও অধ্যয়নে মনোনিবেশ করেন। মূলত বর্ষাকালের প্রতিকূল পরিবেশ থেকে পশুপাখি ও অণুজীবদের রক্ষা করা এবং সাধকদের আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্যই এই প্রথা চলে আসছে।

চাতুর্মাসের নিয়মাবলি:
১. কী করবেন: এই সময় ভগবান বিষ্ণু ও শিবের আরাধনা করা অত্যন্ত ফলদায়ক। শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ বা অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ পাঠ, মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র ও বিষ্ণু মন্ত্র জপ করা, গো-সেবা, দান ও অভাবীদের সাহায্য করা এবং সৎ জীবনযাপন করা এই মাসের প্রধান লক্ষ্য।
২. কী করবেন না: এই সময় বিবাহ, গৃহপ্রবেশ, উপনয়ন, নতুন বাড়ি নির্মাণ বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মতো বড় অনুষ্ঠান থেকে বিরত থাকা উচিত। অনেকে এই সময় মূল্যবান সামগ্রী কেনা থেকেও বিরত থাকেন।

চাতুর্মাস কেবল শুভ কাজ থেকে বিরতি নেওয়ার সময় নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির এক সুবর্ণ সুযোগ। চার মাসের এই শৃঙ্খলিত জীবনযাপন ভক্তদের মনে ভক্তি ও সেবার মানসিকতা গড়ে তোলে, যা বছরের বাকি সময়ের জন্য পরম পাথেয় হয়ে থাকে।