স্ত্রীর জন্মদিনেই বিভীষিকা! পুলিশ কনস্টেবলের গুলিতে প্রাণ হারালেন স্ত্রী, নেপথ্যে কী?

পূর্ব দিল্লির বিনোদ নগর এলাকায় জন্মদিনের দিনেই এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এল। অভিযোগ, দিল্লি পুলিশের এক কনস্টেবল নিজের স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করেছেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী স্ত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তবে মানবিকতার পরিচয় দিয়ে এক ডেলিভারি বয় গুরুতর আহত ওই মহিলাকে উদ্ধার করে এলবিএস হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের নাম প্রিয়াঙ্কা এবং অভিযুক্ত কনস্টেবলের নাম মনীশ। মনীশ সম্প্রতি পূর্ব দিল্লির অটো অ্যান্টি-থেফট স্কোয়াডে (AATS) কর্মরত ছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার দিনটি ছিল প্রিয়াঙ্কার জন্মদিন। পারিবারিক বিবাদ নাকি অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্রের জেরে এই হত্যাকাণ্ড, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রিয়াঙ্কাকে বিনোদ নগরের বাসভবনেই গুলি করা হয়। এরপর অপরাধ ঢাকতে অভিযুক্ত মনীশ তাঁর দেহ রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, ঘটনার সময় ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন এক ডেলিভারি বয়। তিনি আহত মহিলাকে পড়ে থাকতে দেখে দেরি না করে দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে প্রিয়াঙ্কা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত কনস্টেবল মনীশ পলাতক। পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। ঘটনাস্থল এবং অভিযুক্তের বাড়ি থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। ঘটনার ক্রম নির্ধারণ এবং প্রকৃত অপরাধী ও তার সহযোগীদের ধরতে আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দিল্লি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নৃশংস ঘটনার তদন্ত বিভিন্ন দিক থেকে চালানো হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত কনস্টেবলকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য একাধিক বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এবং তার সম্ভাব্য গোপন আস্তানাগুলোতেও অভিযান চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার পর এলাকায় শোক ও তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পুলিশ এই মামলার তদন্তে কোনো খামতি রাখছে না। অভিযুক্তকে শীঘ্রই গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।