কলকাতা পুরনিগমের পাঠানো বেআইনি নির্মাণের নোটিশ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন আদালত পর্যন্ত পৌঁছেছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক ঠিকানায় পুরসভা নোটিশ পাঠানোর পর, সেই নোটিশ খারিজের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁর বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের গ্রীষ্মকালীন অবকাশ বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়।
ঘটনার সূত্রপাত গত কয়েকদিন আগে, যখন কলকাতা পুরনিগম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেশ কিছু সম্পত্তি এবং তাঁর সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর অফিসে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ তুলে নোটিশ পাঠায়। পুরসভার ৪০১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, বাড়ির অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান এবং নির্মাণ সংক্রান্ত নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পুরসভার অভিযোগ ছিল, অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, কালীঘাটে লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে থাকা বাড়িতেও নোটিশ পৌঁছায়। এই নোটিশের পরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা অভিযোগ করেছিলেন যে, পুরসভা যে নোটিশ দিয়েছে, তাতে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যের উল্লেখ নেই, অর্থাৎ ঠিক কোথায় বিচ্যুতি রয়েছে, তার কোনো নথি বা অ্যাটাচমেন্ট দেওয়া হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে বুধবার বিচারপতি স্মিতা দাস দে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বাড়ির ঠিক কোন কোন অংশে বিচ্যুতি রয়েছে, কোন অংশটি আইন বহির্ভূত এবং ঠিক কতটা অংশ নিয়ে পুরসভার আপত্তি, সেই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য ও বিস্তারিত খতিয়ান আগামী সাত দিনের মধ্যে পুরনিগমকে আদালতে জমা দিতে হবে। আদালত আরও জানিয়েছে, পুরনিগমের রিপোর্ট পাওয়ার পর বাড়ির মালিককে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তার যথাযথ জবাব দিতে হবে। চার সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে।
তবে মামলা চলাকালীন পুরনিগম হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। বিচারপতি স্মিতা দাস দে তাঁর পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, এই আইনি লড়াই চললেও, বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত পুরসভার অন্যান্য সাধারণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে কোনো বাধা নেই। অর্থাৎ, আইনি প্রক্রিয়া চললেও পুরনিগম তাদের নিয়ম অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে পুরসভার ‘বুলডোজার নীতি’ বা কঠোর অবস্থান নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে সরগরম। ২৯-সি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িটি সম্পূর্ণ বৈধভাবে নির্মিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় ও লতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের আইনজীবী জানিয়েছেন, পুরসভা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এই ধরনের নোটিশ পাঠিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সাত দিনের মধ্যে পুরনিগম যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবে, তাতে কী তথ্য উঠে আসে এবং এই আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়। আপাতত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের এই মামলার দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।





