বৃহন্নলা ও বন্ধুকে মারধর-ছিনতাইয়ের অভিযোগ, পূর্ব মেদিনীপুরে গ্রেফতার বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েতের উপপ্রধান

রাতের বেলা বাড়ি ফেরার পথে এক বৃহন্নলা ও তাঁর বন্ধু যুবককে মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে অবশেষে গ্রেফতার হলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরি ২ ব্লকের নিচ কশবা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। ধৃত বিজেপি নেতার নাম তারাপদ মণ্ডল, তাঁর বাড়ি নিচ কশবা পূর্ব গ্রামে। মঙ্গলবার অভিযুক্তকে কাঁথি আদালতে তোলা হলে বিচারক ৩ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
কী ঘটেছিল সেই রাতে?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে লক্ষ্মী পূজা উপলক্ষে দক্ষিণ অলিচক গ্রামে এক বন্ধুর বাড়িতে নিমন্ত্রণ খেয়ে বাইকে করে ফিরছিলেন শেরখাঁচকে-এর বাসিন্দা এক বৃহন্নলা ও তাঁর বন্ধু কৃষ্ণেন্দু পাত্র। রাত ১১টা নাগাদ হিজলি যাওয়ার পথে মিশ্র মোড় এলাকায় উপপ্রধান তারাপদ মণ্ডল সহ বেশ কয়েকজন যুবক তাঁদের বাইক আটকায় বলে অভিযোগ।
অভিযোগ, বৃহন্নলাকে বাইক থেকে নামানোর জন্য হাত ধরে টানাটানি করা হয়। কৃষ্ণেন্দু পাত্র বাধা দিতে গেলে তাঁকে বাইক থেকে ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। শুধু মারধরই নয়, তাঁর কাছ থেকে নগদ ৭,৪০০ টাকা ও একটি সোনার আংটি (আনুমানিক ২৮ হাজার টাকা মূল্য) জোর করে কেড়ে নেওয়া হয়। এমনকি, বৃহন্নলার মানিব্যাগও কেড়ে নেওয়া হয়। পুলিশকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
একই রাতে দুই তৃণমূল কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, শুধু কৃষ্ণেন্দু পাত্র নন, ওই দিন সন্ধ্যা ৯টা নাগাদ উপপ্রধান তারাপদ মণ্ডল ও তাঁর দলবল অন্য এক তৃণমূল কর্মী সমরেশ সাহু-এর উপরও চড়াও হন। সমরেশ সাহু-এর কাছ থেকে নগদ ২৭ হাজার টাকা ও ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের দুটি সোনার আংটি জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
পরে আহত সমরেশ সাহু এবং কৃষ্ণেন্দু পাত্রকে স্থানীয় শিলাবেরিয়া গ্রামীণ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। রাতেই তালপার্টি উপকূল থানায় অভিযোগ দায়ের হলে পুলিশ রাতেই অভিযুক্ত উপপ্রধান তারাপদ মণ্ডলকে গ্রেফতার করে।
তৃণমূলের তীব্র কটাক্ষ, বিজেপির পাল্টা দাবি
বিজেপি পরিচালিত উপপ্রধানের এই কর্মকাণ্ড নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বরা তীব্র কটাক্ষ করেছেন। পঞ্চায়েত সদস্য তথা তৃণমূল নেতা সেক দিদার আলি অভিযোগ করেন, উপপ্রধান মদ খেয়ে এলাকায় মস্তানি করছেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। নিচ কশবা অঞ্চল সভাপতি সমীরণ দাস উপপ্রধানকে লুটপাট ও তোলাবাজিতে সিদ্ধহস্ত বলে অভিযোগ করেন।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। খেজুরি ২ ব্লকের বিরোধী দলনেতা পবিত্র দাস-এর দাবি, বিজেপি দলীয় পতাকার উপর তৃণমূল কর্মীরা অশ্লীল আচরণ করেছিল, এনিয়ে উপপ্রধানের সঙ্গে বচসা হয়েছিল। প্রতিবাদ করার জন্যই উপপ্রধানকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।