বাংলায় বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে শুভেন্দু অধিকারী সরকারের বুলডোজার নীতির পর এবার একই পথে হাঁটতে চলেছে কেন্দ্র। সারা দেশে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করার বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে কোনো প্রকার অবৈধ দখলদারি বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
সীমান্তে শাহের কড়া অবস্থান
ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকার একগুচ্ছ নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ‘স্মার্ট বর্ডার’ পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেই বিভিন্ন রাজ্যের সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে নেমেছেন। গতকাল রাজস্থান সীমান্ত পরিদর্শনের পর সেখানে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজন লাল শর্মা উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠক থেকেই অমিত শাহ নির্দেশ দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা সমস্ত বেআইনি নির্মাণ অবিলম্বে চিহ্নিত করে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে হবে।
৩৬০ ডিগ্রি নিরাপত্তা কাঠামো
কেবল বেআইনি নির্মাণ ভাঙাই নয়, সীমান্তবর্তী প্রতিটি জেলার জন্য একটি ‘৩৬০ ডিগ্রি নিরাপত্তা কাঠামো’ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। অমিত শাহের মতে, অনুপ্রবেশ, মাদক চোরাচালান এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় বিএসএফ (BSF), এনসিবি (NCB) এবং রাজ্য সরকারকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। জেলা শাসকদের এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আর্থিক অপরাধ ও ভুয়ো পরিচয়পত্রের ওপর নজরদারি
সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে অপরাধ দমনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছেন:
আর্থিক লেনদেন: সীমান্ত এলাকায় ব্যাংক লেনদেন যাতে আইন মেনে হয় এবং বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থের উৎস যাতে খতিয়ে দেখা হয়, সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শেল কোম্পানি: মিউল অ্যাকাউন্ট (Mule Account) এবং শেল কোম্পানিগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন শাহ।
ভুয়ো আধার কার্ড: অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করতে ভুয়ো আধার কার্ড বা পরিচয়পত্রের জালিয়াতদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
আগামী ১৫ জুন পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছেন অমিত শাহ। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, বাংলার সীমান্ত এলাকাতেও তিনি একই রকম কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিতে পারেন। কেন্দ্রীয় সরকারের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি যে সীমান্তবর্তী অপরাধ ও অবৈধ দখলদারির মূলে কুঠারাঘাত করবে, তা বলাই বাহুল্য। সীমান্তবর্তী জেলায় প্রশাসনিক তৎপরতা এখন তুঙ্গে।





