ট্রাম্পের হুঙ্কারে তেহরানের পাল্টা জবাব! হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের আগুন আরও তীব্র, কী ঘটছে মধ্যপ্রাচ্যে?

বিশ্বজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন—আমেরিকা ও ইরানের এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ কি আদৌ থামবে? ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত ২৮ মে, তিন মাস পূর্ণ করল। গত ৯০ দিনে পশ্চিম এশিয়ার আকাশ কেবল অশান্তই হয়নি, বরং রক্তে রঞ্জিত হয়েছে। শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে বারবার আশার আলো দেখা গেলেও, বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিপরীত। কখনো ট্রাম্প শান্তি চুক্তির কথা বলেন, তো পরক্ষণেই তেহরান জানিয়ে দেয় কোনো শর্তই তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

তিন মাস আগে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের নাটকীয় মোড় এখন চরম আকার নিয়েছে। হরমুজ প্রণালী, যা বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন, এখন কেবল যুদ্ধের ময়দান। ট্রাম্পের ইরানকে ধ্বংস করার হুমকি এবং পালটা তেহরানের হুঙ্কার বিশ্ববাজারকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কয়েকবার যুদ্ধবিরতির চেষ্টা হলেও প্রতিটি বৈঠকই ব্যর্থ হয়েছে। দুই দেশই একে অপরের দিকে বন্দুক উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কারো মাথা নত করার কোনো লক্ষণ নেই।

সর্বশেষ সংঘাতের কেন্দ্রে ফের সেই হরমুজ প্রণালী। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকা ইরানের বন্দর আব্বাসের কাছে একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। আমেরিকার দাবি, ওই ঘাঁটিটি মার্কিন সেনা ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। পেন্টাগনের এক আধিকারিকের ভাষ্যমতে, “এই হামলা ছিল অত্যন্ত সীমিত এবং প্রতিরক্ষামূলক।” তাদের অভিযোগ, সেখান থেকে পঞ্চম একটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল। বৃহস্পতিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই বন্দর আব্বাসের আকাশে একাধিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে শহর। ইরানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমও সেই সময় কিছুক্ষণের জন্য সক্রিয় করা হয়।

পালটা আঘাত করতে দেরি করেনি তেহরানও। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (IRGC) দাবি করেছে, ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে তারা আমেরিকার একটি বিমানঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইরানের হুঁশিয়ারি, আমেরিকা যদি যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন করে এবং হামলা অব্যাহত রাখে, তবে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিণতির জন্য তাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

বিশ্ববাণিজ্য আজ ধুঁকছে, অগণিত দেশ ক্ষতির সম্মুখীন, অথচ আমেরিকা বা ইরান—কেউই এই ধ্বংসযজ্ঞ থামাতে আগ্রহী নয়। আমেরিকার ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা আর ইরানের ‘বদলার’ লড়াইয়ে এখন গোটা মধ্যপ্রাচ্য একটি আগ্নেয়গিরির ওপর বসে আছে। তিন মাসের এই সংঘাত এটাই প্রমাণ করে যে, এই দুই শক্তির জেদ ও অহংবোধের বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। আপাতত কোনো শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা দেখা না গেলেও, রণক্ষেত্রে প্রতিদিন নতুন নতুন হামলার ঘটনা প্রমাণ করছে যে, এই যুদ্ধ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে চলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি এখন শুধু ওই অঞ্চলের নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য এক বিশাল হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy