শিক্ষা মন্ত্রক বদলালেও মানেনি আন্দোলনকারীরা! ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা আদায়ের নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

NEET-UG ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং ব্যাপক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের মুখে পড়ে গত ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তবে পদ থেকে তাঁকে সম্পূর্ণ সরিয়ে দেওয়ার ঠিক আগে, কেন্দ্র সরকার একটি বিকল্প পথ বিবেচনা করেছিল—তাঁকে শিক্ষা মন্ত্রক থেকে সরিয়ে অন্য কোনো তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাতেই রেখে দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা হয়েছিল। সম্প্রতি একটি জাতীয় গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমনই এক বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছে।
উক্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং খোদ দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান এই প্রতিবাদ আন্দোলনের নেতৃত্ব দানকারী ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ বা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করেছিলেন। সেই আলোচনায় তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে শিক্ষামন্ত্রক থেকে সরিয়ে যদি অন্য কোনো দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তবে আন্দোলনকারীরা সরকারের এই মধ্যস্থতা বা সমাধান সূত্রটি মেনে নেবেন কি না।
কিন্তু সরকারের সেই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছিলেন আন্দোলনকারী নেতৃত্ব। তাদের অবস্থান ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট ও অনমনীয়—ধর্মেন্দ্র প্রধানের সম্পূর্ণ পদত্যাগ এবং ইস্তফাই একমাত্র তাদের আন্দোলনের একমাত্র গ্রহণযোগ্য ও চূড়ান্ত সমাধান। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে যে, সরকার এবং আন্দোলনকারী নেতাদের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো কার্যকর ও ফলপ্রসূ যোগাযোগ না থাকায় পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল হয়ে ওঠে এবং উভয় পক্ষই নিজেদের নিজ নিজ অবস্থানে কঠোরভাবে অনড় থাকে।
NEET-UG ২০২৬-এর অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ধীরে ধীরে দেশের সার্বিক শিক্ষা নিয়োগ ও প্রবেশিকা পরীক্ষার স্বচ্ছতা সংক্রান্ত একটি বৃহত্তর আন্দোলনের রূপ ধারণ করেছিল। সিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি তোলা হয়েছিল যে, এই লড়াই কেবল একজন নির্দিষ্ট মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ক্ষোভের প্রকাশ নয়, বরং গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত জবাবদিহির দাবিতে এই আন্দোলন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা জমা দেওয়ার ঠিক আগের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) এবং শাসক দলের অন্দরেও এই পরিস্থিতি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছিল। দলের অন্দরের একটি অংশের সুচিন্তিত মত ছিল যে, তীব্র জনরোষ এবং সংসদের ভেতরে-বাইরে লাগাতার অচলাবস্থার মুখে দাঁড়িয়ে শিক্ষা মন্ত্রকের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে আর বেশিদিন টিকিয়ে রাখা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছিল।
যদিও সরকার নেপথ্যে বিভিন্ন গোপন আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিল, কিন্তু ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিত্ব থেকে সম্পূর্ণ বহিষ্কার করা ছাড়া অন্য কোনো প্রস্তাব আন্দোলনকারীরা মানতে একবিন্দুও রাজি হননি। অবশেষে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা লাগাতার আন্দোলনের পর চরম চাপের মুখে পড়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিতে বাধ্য হন।
ইস্তফা পর্ব মিটতেই সিজেপি নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিক ভাবে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা করে এবং একে ছাত্রসমাজের ঐতিহাসিক আন্দোলনের সুমহান জয় বলে অভিহিত করে। এদিকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর শূন্য হওয়া কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে পোড়খাওয়া কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর কাঁধে।