বীরসিংহের সিংহ হৃদয়কে কেন কেন্দ্র সম্মান দেয়নি? বিদ্যাসাগরের জন্মদিনে শিক্ষক দিবস চেয়ে সরব বাংলাপক্ষ!

ভারতের জাতীয় শিক্ষক দিবস নিয়ে এক বিস্ফোরক দাবি তুলল বাংলাপক্ষ। এতদিন ধরে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও দার্শনিক সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জন্মদিন ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হলেও, বাংলাপক্ষ দাবি করেছে এবার থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর—পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিনেই এই দিবস পালন করা উচিত। বাংলাপক্ষের এই দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন বাংলার মানুষ।
কেন রাধাকৃষ্ণনকে ‘অতীত’ বলল বাংলাপক্ষ?
বাংলাপক্ষের সম্পাদক কৌশিক মাইতি দাবি করেছেন, ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস পালন করা নৈতিকতার পরিপন্থী। তাঁদের অভিযোগ:
গবেষণাপত্র চুরি: রাধাকৃষ্ণন তাঁর গবেষণার থিসিস নিজে লেখেননি। তিনি বাঙালি দার্শনিক যদুনাথ সিংহের গবেষণাপত্র চুরি করেছিলেন।
মামলা ও মধ্যস্ততা: সেই গবেষণাপত্র বই আকারে বের হলে যদুনাথ সিংহ রাধাকৃষ্ণনের নামে মামলাও করেছিলেন। বাংলাপক্ষের অভিযোগ, এই মামলায় স্বয়ং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় মধ্যস্ততা করেছিলেন।
তাই বাংলাপক্ষ ৫ সেপ্টেম্বর তারিখটিকে ‘শিক্ষক দিবস’ নয়, বরং ‘রাষ্ট্রীয় চোর দিবস’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
বিদ্যাসাগরের পক্ষ নেওয়ার কারণ
বাংলাপক্ষ বলছে, বীরসিংহের সিংহ হৃদয় বিদ্যাসাগর ছিলেন প্রকৃত সমাজ সংস্কারক। শুধু বাংলায় নয়, সারা ভারতে বিধবা বিবাহ আইন সিদ্ধ করা এবং নারীশিক্ষায় অগ্রণী ভূমিকার জন্য তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু সেই তুলনায় বিদ্যাসাগর ভারতের বুকে তেমন সম্মান পাননি।
বাংলাপক্ষের সম্পাদক কৌশিক মাইতি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “বিদ্যাসাগরের আলো, ঘরে ঘরে জ্বালো।” তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রত্যেক ভারতবাসীর ভুল ভেঙে বেরিয়ে আসা উচিত এবং ৫ সেপ্টেম্বরের বদলে ২৬ সেপ্টেম্বরকেই জাতীয় শিক্ষকদিবস হিসেবে পালন করা উচিত।
বাংলার মানুষের প্রতিক্রিয়াও সেই সুরেই মিলেছে। তাঁদের মতে, বাংলার মনীষী বিদ্যাসাগরকে কেন্দ্র কোনো সম্মান দেয়নি এবং অমিত শাহের নেতৃত্বে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ঘটনা এখনও মানুষের মনে অমলিন। তাই বাঙালির কাছে ২৬ সেপ্টেম্বরই হওয়া উচিত প্রকৃত শিক্ষক দিবস।