বিহারে জমি কেনার হিড়িক! ১০ হাজার কোটি আয়ের লক্ষ্য সরকারের, বাড়বে রেজিস্ট্রেশন খরচ

বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির প্রকোপ সত্ত্বেও বিহারের আবাসন ও জমি কেনাবেচার বাজারে যেন জোয়ার এসেছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত তিন বছরে রাজ্যে জমি ও সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন থেকে রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই গতিধারা বজায় রেখে বিহার সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে স্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ১০,০০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। গত অর্থবর্ষের সংশোধিত আয় ৮,২৫০ কোটি টাকার তুলনায় এই লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ২১ শতাংশ বেশি, যা রাজ্যের সম্পত্তি বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকেই প্রতিফলিত করে।

এই সাফল্যের পেছনে সরকারের সুপরিকল্পিত কৌশল কাজ করছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ৭,৫০০ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও, সরকার প্রকৃত আয় করেছিল ৭,৯৭৬ কোটি টাকা—যা প্রত্যাশাকেও ছাপিয়ে গেছে। শুধু স্ট্যাম্প ডিউটি নয়, ভূমি রাজস্ব থেকেও আয় বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে প্রশাসন। ২০২৬-২৭ সালে ভূমি রাজস্ব থেকে ৮০০ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি।

স্বচ্ছতা আনতে ও দালালের দৌরাত্ম্য কমাতে সরকার বড়সড় ডিজিটাল বিপ্লব ঘটিয়েছে। আগামী আগস্ট মাস থেকেই বিহারে জমি, ফ্ল্যাট ও অন্যান্য সম্পত্তির রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ কাগজবিহীন বা ‘পেপারলেস’ হতে চলেছে। ইতিমধ্যে ১১ই জুলাই হাজিপুর জেলা রেজিস্ট্রেশন অফিসে এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে এবং ১৮ই জুলাই থেকে আরও নয়টি অফিসে এই প্রযুক্তি কার্যকর হবে। ‘বিহার রেজিস্ট্রেশন বিধিমালা ২০২৬’-এর অধীনে ধাপে ধাপে রাজ্যের সমস্ত অফিসকে এই ডিজিটাল ছাতার নিচে আনা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ হয়রানি ছাড়াই দ্রুত রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারবেন।

তবে এই ডিজিটাল সুবিধা বাড়লেও ক্রেতাদের পকেট থেকে খরচ বাড়বে। রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার সম্পত্তি মূল্যায়নের হার বা ‘সার্কেল রেট’ এবং স্ট্যাম্প ডিউটিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শহরাঞ্চলে জমির সার্কেল রেট ১০০ শতাংশ পর্যন্ত এবং গ্রামীণ এলাকায় ১.৬ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি, স্ট্যাম্প ডিউটি ৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ শতাংশ করা হয়েছে। যদিও রেজিস্ট্রেশন ফি আগের মতোই ২ শতাংশ থাকছে, কিন্তু সার্কেল রেট ও স্ট্যাম্প ডিউটি বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের জন্য জমি বা ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি করা এখন বেশ ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাক্সাউলের মতো বিভিন্ন এলাকায় জমির সরকারি দাম বাড়ার ফলে সাধারণ মানুষের খরচ যে একধাক্কায় অনেকটা বাড়ছে, তা বলাই বাহুল্য। তবে সরকারি মহলের দাবি, এই নীতি রাজ্যে আবাসন খাতের পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল করবে।