বিশ্বযুদ্ধে দোরগোড়ায় জ্বালানি বাজার! হরমুজ প্রণালি বন্ধে কি তবে তেলের দাম ২০০ ডলার ছাড়াবে?

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের দাবদাহে উত্তপ্ত বিশ্ব অর্থনীতি। পারস্য উপসাগরের প্রাণকেন্দ্র ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও কাঁচামালের বাজারে হাহাকার শুরু হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে এক ডজনেরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই জলপথ সচল করতে সহায়তা না করলে ‘নেটোর ভবিষ্যৎ’ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।

যুদ্ধের আগে যে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলার, তা এখন ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। কিন্তু সমস্যা শুধু তেল নিয়ে নয়; এই সংকট উন্মোচন করেছে বিশ্ববাণিজ্যের এক চরম দুর্বলতা—’ম্যারিটাইম বটলনেকস’।

বিশ্বের ৫টি বিপজ্জনক ও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ:

হরমুজ প্রণালি: বিশ্বের ৩৯% তেল ও ১৯% প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে যায়। এর কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে এখানে সরবরাহ বিপর্যয় ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

সুয়েজ খাল: বিশ্ববাণিজ্যের ১০% এবং কন্টেইনার পরিবহনের ২২% নিয়ন্ত্রণ করে এই খাল। হুথি বিদ্রোহীদের হামলার আশঙ্কায় এখানে জাহাজ চলাচল অর্ধেক হয়ে গেছে।

পানামা খাল: খরা এবং ভূ-রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে এই খাল এখন ধুঁকছে। ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।

মালাক্কা প্রণালি: চীনের ৮০% তেল আমদানির পথ। জলদস্যুতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা এই পথটি এশিয়ার অর্থনীতির লাইফলাইন।

টার্কিশ প্রণালি: বিশ্বজুড়ে গম রপ্তানির ২০% এই পথ দিয়ে হয়। কৃষ্ণসাগরের উত্তেজনা এখানে সরবরাহ ব্যবস্থাকে যেকোনো সময় ধসিয়ে দিতে পারে।

বিশ্বের বাণিজ্য এখন এই গুটিকয়েক সরু পথের ওপর জিম্মি। এই বটলনেকগুলোর যেকোনো একটি দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ হলে খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে সাধারণ পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।