২০২৬ বিশ্বকাপের দামামা বেজে গেছে, কিন্তু তার আগেই পর্তুগিজ শিবিরে ঘনাচ্ছে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ। নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জয় পেলেও শিরোনামে উঠে এসেছেন স্বয়ং ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। তবে জয়ের জন্য নয়, বরং গোল মিসের এক হতাশাজনক প্রদর্শনী উপহার দিয়ে! ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকার মাঠে এমন নিস্প্রভ পারফরম্যান্স ভক্তদের মনে বিশ্বকাপের ফর্ম নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
পর্তুগালের লেইরিয়া স্টেডিয়ামে নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে রোনাল্ডোকে দেখা গেছে চেনা ছন্দে নেই। সাধারণত বক্সে বল পেলে যিনি জাল কাঁপাতে ওস্তাদ, এদিন তিনিই যেন গোলপোস্টের ঠিকানা ভুলে গিয়েছিলেন। ম্যাচের মাত্র ৯ মিনিটের মাথায় নেলসন সেমেদোর বাড়ানো নিখুঁত পাস থেকে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল বাইরে মেরে বসেন। সুযোগ নষ্ট করার পর তাঁর হতাশ চেহারা এবং বিজ্ঞাপন বোর্ডে রাগের মাথায় লাথি মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে।
এরপর পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে দ্বিতীয় একটি সহজ সুযোগও হাতছাড়া করেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। বাঁ-পায়ের শটটি ঠিকঠাক লক্ষ্যে রাখতে না পেরে বল সরাসরি গ্যালারিতে পাঠিয়ে দেন। মাত্র ৬৫ মিনিটের খেলায় একাধিক এমন সহজ গোল মিস রোনাল্ডোর ফুটবলীয় দক্ষতার ওপর যেন প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে রোনাল্ডোর এই ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। যদিও তিনি রোনাল্ডোর পক্ষ নিয়েই সুর চড়িয়েছেন। কোচ জানান, বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের কঠিন চ্যালেঞ্জ সামলাতে রোনাল্ডোকে শারীরিকভাবে প্রস্তুত করতেই এই বিশেষ ম্যাচ ফিটনেস পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধে দলের ৮ জন খেলোয়াড় পরিবর্তন করলেও রোনাল্ডোকে মাঠে রেখেছিলেন কোচ, যাতে তিনি লম্বা সময় খেলার অভ্যস্ততা ফিরে পান।
উল্লেখ্য, ম্যাচে পেদ্রো নেতো পর্তুগালকে এগিয়ে দিলেও নাইজেরিয়ার আকর অ্যাডামস বিরতির ঠিক আগে সমতা ফেরান। শেষ পর্যন্ত জয় পেলেও, বিশ্বকাপের আগে রোনাল্ডোর এই ছন্দহীনতা পর্তুগালের রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগের সমন্বয় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের নতুন করে ভাবাচ্ছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে রোনাল্ডো কি পারবেন তাঁর চিরচেনা বিধ্বংসী রূপ ফিরে পেতে? নাকি ৪১ বছর বয়সে বয়সের ভারে নুইয়ে পড়ছেন ফুটবলের এই কিংবদন্তি? এই উত্তর এখন সময়ের অপেক্ষায়।





