বিয়ের কথা কাটাকাটি থেকে রক্তগঙ্গা! প্রেমিকার গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা যুবকের?

মুম্বইয়ের মানিশ নগর এলাকার একটি অভিজাত হোটেলের বন্ধ ঘর থেকে ২৮ বছর বয়সি এক তরুণীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে হোটেলের ৩০২ নম্বর কামরা থেকে ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ছুরিকাঘাতে নিহত ওই তরুণীর নাম শিবানি গজভিয়ে। একই ঘর থেকে অত্যন্ত গুরুতর ও সংকজনক অবস্থায় কিরণ আত্রাম নামে এক যুবককেও উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের জোরালো অনুমান, ওই যুবক প্রথমে তরুণীকে খুন করার পর নিজেই আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল।

পুলিশ ও হোটেল সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টা নাগাদ হোটেল কর্মীদের কানে ওই রুম থেকে তীব্র চিৎকার ও ধস্তাধস্তির আওয়াজ আসে। সঙ্গে সঙ্গে কর্মীরা সেখানে ছুটে গিয়ে দেখতে পান যে, শিবানি ও কিরণ দু’জনেই রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে রয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি রক্তমাখা ধারালো ছুরিও উদ্ধার করে। নিহত শিবানির শরীরে একাধিক গভীর ছুরিকাঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা শিবানিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় কিরণ বর্তমানে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, শিবানি গজভিয়ে এবং কিরণ আত্রাম দু’জনেই পেশায় রেলকর্মী ছিলেন। পুলিশি জেরায় ও প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, বিয়ে সংক্রান্ত কোনো ব্যক্তিগত বিষয় বা বিবাদকে কেন্দ্র করে ওই রাতে দু’জনের মধ্যে তীব্র বচসা বেঁধেছিল। সেই উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার জেরে চরমে পৌঁছানো আক্রোশ থেকেই কিরণ শিবানিকে নির্মমভাবে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন এবং পরবর্তীতে নিজে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন বলে সন্দেহ করছেন তদন্তকারী অফিসাররা। তবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ বা ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

খবর পাওয়া মাত্রই বেলতারোডি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করে। হোটেলের ওই ঘরটি সিল করে ফরেনসিক দলের সাহায্যে বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং অপরাধে ব্যবহৃত ছুরিটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। নিহত ও আহতের পারস্পরিক সম্পর্ক, ঘটনার ঠিক আগে তাঁদের গতিবিধি এবং কেন তাঁরা ওই হোটেলে এসে উঠেছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এটি কি হঠাৎ ঘটে যাওয়া বচসার পরিণতি নাকি সুপরিকল্পিত হামলা, তা উদ্ঘাটনে জোরদার তল্লাশি চলছে। চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে চিকিৎসাধীন অভিযুক্ত কিরণের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেই তাঁর কাছ থেকে বিস্তারিত বয়ান রেকর্ড করা সম্ভব হবে এবং তবেই এই রহস্যের আসল জট খুলবে।