ভাঙচুর নন্দলাল বসুর আঁকা ঐতিহাসিক প্রতীকে, পদদলিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য?

বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বর কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হলো। আগের দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং জেনারেল বডির মিটিং নিয়ে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করে বৃহস্পতিবার। একদিকে এসএফআই, এআইডিএসও-র মতো বাম ছাত্র সংগঠন এবং অন্যদিকে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। এই তীব্র বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষের জেরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যমণ্ডিত ও ঐতিহাসিক প্রতীকের একটি অংশ ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়, যা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তনী ও অধ্যাপক মহল।

উলেখ্য, প্রখ্যাত শিল্পী নন্দলাল বসু এই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীকের নকশা করেছিলেন। গভীর তাৎপর্যপূর্ণ এই প্রতীকে রয়েছে প্রজ্বলিত প্রদীপের তিনটি শিখাঘেরা একটি গোলক, যেখানে বাংলা ও হিন্দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম খোদাই করা। সেই প্রদীপ ও নামের চারপাশ ঘিরে রয়েছে পদ্মফুলের বেশ কিছু পাপড়ি, যা মূলত চারুকলা, ললিতকলা এবং সংস্কৃতির প্রতীক। কিন্তু এ দিন আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় চলা তাণ্ডবে সেই প্রতীকের অংশটি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং পদদলিত হয়। এই দৃশ্য সামনে আসতেই কলেজের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের মধ্যে গভীর লজ্জার আবহ তৈরি হয়।

বুধবার জিবি মিটিংকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে তীব্র অশান্তি শুরু হয়েছিল। গেটে তালা লাগিয়ে ছাত্রদের ভেতরে আটকে রাখা, মারামারি, হুমকি এবং আগুন জ্বালানোর মতো ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যার নামে বৃহস্পতিবার ফের দুই পক্ষ পথে নামে। গোলপার্ক থেকে এবিভিপির একটি মিছিল যাদবপুরের দিকে আসার সময় পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক ধস্তাধস্তি বাধে। পুলিশ রাস্তা আটকে দিলে আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং টপকে যান ডিভাইডার। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ, র্যাফ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথভাবে ময়দানে নামে।

অন্যদিকে, যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ডে বাম ছাত্র সংগঠনগুলি জমায়েত হতেই তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। গার্ডরেল সরিয়ে আন্দোলনকারীরা জোর করে এগোতে গেলে পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি শুরু হয়। ৪ নম্বর গেট চত্বর সম্পূর্ণ অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। প্রধান গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে।

এই নজিরবিহীন পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ক্যাম্পাস সিসিটিভিতে মোড়া থাকলেও যাদবপুরের মুক্ত সংস্কৃতির ঐতিহ্য বজায় রাখতে ক্যাম্পাসের ভেতরে এতদিন কোনো পুলিশ আউটপোস্ট রাখা হয়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে পুলিশ পোস্ট তৈরির ভাবনা চলছে এবং প্রয়োজনে উচ্চপর্যায়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে আচার্য ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরে সম্পূর্ণ রিপোর্ট পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।