কাঁচা রাস্তায় আটকে গেল অ্যাম্বুল্যান্স! ছ’মাসের শিশুর মৃত্যুর অভিযোগে রণক্ষেত্র বর্ধমান

পূর্ব বর্ধমান জেলার বুদবুদ থানার চাকতেঁতুল গ্রামের বাউড়িপাড়ায় এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গিয়েছে, যা ফের একবার আমাদের গ্রামীণ পরিকাঠামোর বেহাল চিত্রটিকে চরমভাবে সামনে এনে ফেলেছে। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বেহাল রাস্তার কারণে সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় মাত্র ছ’মাসের এক শিশুকুটুম্বের অকালমৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে তার পরিবার। এই হৃদয়বিদারক ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাতে। পরিবারের দাবি, ওই রাতে হঠাৎই মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে ছ’মাসের শিশুটি। তাকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য তড়িঘড়ি একটি অ্যাম্বুল্যান্স ডাকা হয়। কিন্তু গ্রামের ঢোকার মুখেই রাস্তা এতটাই ভাঙাচোরা এবং কদমাক্ত ছিল যে, অ্যাম্বুল্যান্সটি নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। বাধ্য হয়ে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা রোগাক্রান্ত শিশুটিকে কোলে করেই কাদার মধ্যে দিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু পথেই সব শেষ হয়ে যায়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই কোলোর ওপর প্রাণ হারায় সেই ছোট্ট শিশুটি।
পরিবারের এই শোচনীয় অভিযোগ সামনে আসার পরেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গ্রামের সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। বেহাল রাস্তা দ্রুত সংস্কারের জোরালো দাবিতে চাকতেঁতুল গ্রামের বাসিন্দারা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ওই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বুদবুদ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আনতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে এবং দীর্ঘ আলোচনার পর অবরোধ তুলে নিতে সক্ষম হয়। স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত করতে এলাকার বিধায়ক নিজে এগিয়ে আসেন এবং দ্রুত রাস্তা নতুন করে তৈরি করার সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দেন।
এই ঘটনার পর থেকেই স্থানীয়দের মনে প্রশ্ন জাগছে, আর কত শিশুর প্রাণ গেলে প্রশাসনের টনক নড়বে? স্বাধীনতার এত বছর পরেও কেন গ্রামের পর গ্রাম যোগাযোগ ব্যবস্থার এই করুণ দশা ভোগ করতে হবে? গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং যাতায়াতের বেহাল দশা নিয়ে এখন রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে জোরদার রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস মিললেও, অবহেলার বলি হওয়া সেই ছ’মাসের শিশুর চলে যাওয়ার ক্ষত সহজে মুছে যাওয়ার নয়।