বিধানসভা ভোটের আগে বিরাট অ্যালার্ট! ৫টি থানাকে ‘স্পর্শকাতর’ ঘোষণা, শুরু নাইট প্যাট্রলিং

বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বাড়তি সতর্কতা শুরু করে দিয়েছে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট। অতীত অপরাধের রেকর্ড খতিয়ে দেখে কমিশনারেটের অধীনে থাকা ২৫টি থানার মধ্যে পাঁচটি থানাকে ‘স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ভাটপাড়া, জগদ্দল, নৈহাটি, টিটাগড় এবং কামারহাটি—এই পাঁচটি থানাকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখাই মূল লক্ষ্য, তাই কালীপুজোর পর থেকেই শুরু হয়েছে এই বিশেষ নজরদারি।
🌙 রাত এগারোটা থেকে বিশেষ টহল
স্পর্শকাতর থানা এলাকা ধরে ধরে রাতে বাড়তি নজরদারি শুরু হয়েছে। রাতভর চলছে টহলদারি:
- প্যাট্রলিং: কখনও বাইকে চেপে, কখনও পায়ে হেঁটে এই নাইট প্যাট্রলিং চলছে।
- সশস্ত্র টহল: থানার অফিসাররা র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সকে (RAF) সঙ্গে নিয়ে সশস্ত্র অবস্থায় টহল দিচ্ছেন।
- সতর্কতা: কোথাও কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা সন্দেহজনক জমায়েত দেখলেই তাদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং সতর্ক করা হচ্ছে।
💣 জুটমিল ও রেল সাইডিংয়ে বিশেষ নজর
অতীতের রেকর্ড বলছে, ভাটপাড়া, জগদ্দল, টিটাগড় অঞ্চলে বহু বোমা উদ্ধার হয়েছে পরিত্যক্ত জুটমিল কোয়ার্টারের ভিতর এবং রেল সাইডিং এলাকা থেকে। রাত বাড়লেই এই সমস্ত পরিত্যক্ত কোয়ার্টার এবং রেল সাইডিং এলাকায় দুষ্কৃতীদের আনাগোনা বাড়ে।
পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘অতীত অপরাধের রেকর্ড বেশি এমন পাঁচটি থানা এলাকায় স্পেশাল নাইট প্যাট্রলিং শুরু হয়েছে। এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখাই মূল লক্ষ্য।’ দাগী অপরাধীদের তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কাজও শুরু করেছে পুলিশ।
🗣️ রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
পুলিশের এই উদ্যোগকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর:
- বিজেপির প্রশ্ন: বিজেপি রাজ্য সভানেত্রী ফাল্গুনী পাত্র পুলিশের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও তার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “পুলিশের এই উদ্যোগ স্বাগত। তবে সত্যিই কি দাগী অপরাধীদের পুলিশ ধরতে পারবে?”
- তৃণমূলের দাবি: ব্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক পুলিশের উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ব্যারাকপুরের মানুষ চান ব্যারাকপুর গুন্ডামুক্ত হোক। কিন্তু একমাত্র ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং চান ব্যারাকপুরে গুন্ডারাজ চলুক।”
পুলিশের এই বিশেষ নজরদারির ফলে সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কাজও শুরু হয়েছে।