বরফের শুভ সংকেত! জঙ্গি হানার ৬ মাস পর প্রাণ ফিরল কাশ্মীরের পর্যটনে, তুষারপাতে বুকিং শুরু

পহলগামে জঙ্গি হানার রক্তাক্ত ঘটনার পর কেটে গিয়েছে ছয় মাস। সেই ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকে রাজ্যের পর্যটন ব্যবসায় যে স্থবিরতা এসেছিল, মরশুমের প্রথম তুষারপাত যেন সেই ক্ষতে কিছুটা মলম লাগাল। কাশ্মীরের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এখন আসন্ন বিয়ের মরশুম এবং বছর শেষের শীতকালীন ছুটির দিকে তাকিয়ে বুক বাঁধছেন, যখন নববিবাহিত দম্পতিরা মধুচন্দ্রিমার জন্য উপত্যকায় ভিড় জমান।

তুষারপাতে নতুন জীবন: দু’দিন আগেই তুষারপাতের ফলে বিশ্বখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র গুলমার্গ (ফুলের উপত্যকা) এবং সোনামার্গ (সোনার তৃণভূমি) শ্বেতশুভ্র বরফের চাদরে ঢেকেছে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই সপ্তাহ জুড়েই আরও বরফ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, এত আগে তুষার পড়া খুবই আশাব্যঞ্জক। একজন হোটেল মালিক জানান, “এই তুষারপাতই আবার বুকিং শুরু করে দেবে। কয়েক মাসের অনিশ্চয়তার অন্ধকার কাটিয়ে দিল এই হিমপ্রপাত।”

শ্রীনগরের এক ট্যুর অপারেটর এটিকে ‘বিরাট শুভ সংকেত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, কাশ্মীরের প্রধান আকর্ষণ—স্কিইং, স্নো বোর্ডিং ও শীতকালীন ট্রেকিং—এই খবরে আবার চাঙ্গা হয়ে উঠবে। সোনামার্গের ওয়াসিম আহমেদ এবং গান্ডেরবালের বিলাল আহমেদ জানান, বরফ পড়ার খবর পাওয়া মাত্রই পর্যটকরা অগ্রিম বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ শুরু করেছেন। টাট্টু ঘোড়ার মালিক হাসান এবং কাওয়া বিক্রেতা ইরশাদও ব্যবসার জোয়ারের আশা করছেন।

পহলগামে হানার পর সরকার বেতাব ও আরু ভ্যালি বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে তা খুললেও পুজোতে তেমন পসরা হয়নি।

পর্যটকদের জন্য কেবল কার প্রকল্প: কাশ্মীরের পর্যটন ব্যবসায় গতি আনতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। অতি সম্প্রতি জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) পহলগামের বৈসরণে কেবল কার প্রকল্পে নিরাপত্তা অনুমতি দিয়েছে। জঙ্গিরা এই বৈসরণেই পর্যটকদের উপর হামলা চালিয়েছিল।

রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার মিলে এই ১.৪ কিমি পথের কেবল কার বা রোপওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। এই প্রকল্পের আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে ১২০ কোটি টাকা। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা বিধানসভায় জানিয়েছেন, প্রকল্পটি একটি কোম্পানিকে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং কাজ শুরু হওয়ার দেড় বছরের মধ্যে তা সম্পূর্ণ হবে।