পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার রাজনীতিতে এক অভাবনীয় ও নাটকীয় মোড়। বুধবার বিধানসভার অন্দরে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের অন্তর্দ্বন্দ্ব যেন চরম সীমায় পৌঁছাল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে বিদ্রোহী বিধায়কদের একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৫৮ জন বিধায়ক সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনাকে রাজ্য রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা তৃণমূলের জন্য এক বড়সড় ‘রাজনৈতিক ভূমিকম্প’ হিসেবে দেখছেন।
বৈঠক শেষে ঋতব্রত ও সন্দীপনরা সাফ জানিয়েছেন, তারাই এখন ‘নতুন তৃণমূল’। বিধানসভায় নিজেদের অস্তিত্ব ও শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যে এই ৫৮ জন বিধায়কের সই করা একটি বিশেষ চিঠি সরাসরি বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এই চিঠির মাধ্যমেই তারা দাবি করেছেন, বর্তমানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই রাজ্য বিধানসভার নতুন বিরোধী দলনেতা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিদ্রোহ কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। শাসকদলের অন্দরে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটল এই বিশেষ বৈঠকের মাধ্যমে। শুধু ওই ৫৮ জন বিধায়কই নন, দাবি করা হচ্ছে খুব শীঘ্রই আরও ছয়জন বিধায়ক এই ‘নতুন তৃণমূল’ শিবিরে যোগ দিয়ে সই করবেন। ফলে বিদ্রোহী শিবিরের সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে ৬৪-তে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা রাজ্য বিধানসভার সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।
সন্দীপন সাহা জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত সুচিন্তিত এবং বৃহত্তর স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। বিধানসভার ভেতরে বিরোধী দলনেতার পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতদিন পর্যন্ত এই পদটি নিয়ে যেভাবে শাসকদল ও বিরোধী দলের মধ্যে চাপানউতোর চলছিল, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নতুন দাবি সেই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল।
তৃণমূলের মূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনো এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিধানসভার ভেতরে এভাবে ৫৮ জন বিধায়কের বৈঠক এবং স্পিকারের কাছে সরাসরি প্রতিনিধি পাঠিয়ে নিজেদের ‘নতুন তৃণমূল’ দাবি করা শাসকদলের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে এখন সমস্ত মহলের মানুষ। এই বিদ্রোহ কতটা সুদূরপ্রসারী হয় এবং শাসকদল একে কীভাবে মোকাবিলা করে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।





