বর্ষায় চটচটে ত্বক নিয়ে কি বিরক্ত? এই সহজ ৪টি টোটকায় এক লহমায় দূর হবে ব্রণ!

বর্ষাকালের হালকা ঝিরিঝিরি বৃষ্টি মন জুড়িয়ে দিলেও এই আর্দ্র ও চটচটে আবহাওয়া আমাদের ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে নষ্ট করে দেয়। বর্ষায় বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার কারণে মুখ ও ত্বকে ঘাম এবং তেল উৎপাদন খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এই সময়ে ভুল করে কোনো ভারী বা তৈলাক্ত প্রসাধন সামগ্রী ব্যবহার করলে ত্বক আরও বেশি আঠালো হয়ে পড়ে এবং পোরস বন্ধ হয়ে দেখা দেয় ব্রণের সমস্যা। তাই এই স্যাঁতসেঁতে মৌসুমে ত্বককে সতেজ, স্বাস্থ্যকর ও দাগহীন রাখতে একটি সুনির্দিষ্ট ও সঠিক স্কিন কেয়ার রুটিন মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
দেরাদুনের প্রখ্যাত আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ড. শালিনী জানিয়েছেন যে, গ্রীষ্ম বা শীতকালের মতোই বর্ষাকালেও ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, বর্ষার আর্দ্রতা ও বাতাসে ভেসে বেড়ানো দূষণের কারণে মুখের ত্বকে খুব সহজেই ধুলোবালি, ঘাম এবং অতিরিক্ত সিবাম জমে রোমকূপগুলো বন্ধ করে দেয়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে দিনে অন্তত দুবার একটি ভালো জেল-ভিত্তিক বা ফোমিং ক্লিনজার ব্যবহার করা উচিত। জেল-ভিত্তিক ক্লিনজার ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় রেখেই গভীরে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। হালকা গরম জল দিয়ে মুখ ধুয়ে আলতো হাতে বৃত্তাকার গতিতে ম্যাসাজ করলে অতিরিক্ত তেল দূর হয়।
ত্বক গভীরভাবে পরিষ্কার করার ঠিক পরেই টোনিং করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা অনেকেই এড়িয়ে যান। বর্ষাকালে ত্বকের পিএইচ (pH) স্তরের মারাত্মক ওঠানামা হতে পারে, যার ভারসাম্য বজায় রাখতে খাঁটি অর্গানিক গোলাপ জল একটি চমৎকার প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে কাজ করে। কটন প্যাড ব্যবহার করে অথবা সরাসরি মুখে গোলাপ জল স্প্রে করে আলতো চাপ দিয়ে মিশিয়ে নিলে এর প্রদাহ-রোধী গুণ বর্ষার দিনে ত্বকের লালচে ভাব ও জ্বালাভাব দ্রুত প্রশমিত করে। এছাড়া তৈলাক্ত ভাব এড়াতে অনেকেই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা বন্ধ করে দেন, যা একটি বড় ভুল। ত্বকে আর্দ্রতার অভাব ঘটলে ত্বকের গ্রন্থিগুলো আরও বেশি তেল উৎপাদন করে। তাই এই সময়ে ভারী ক্রিমের বদলে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড বা অ্যালোভেরা-ভিত্তিক হালকা ওয়াটার-বেসড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।
অনেকেই মনে করেন মেঘলা দিনে সূর্যের আলো থাকে না বলে সানস্ক্রিনের কোনো প্রয়োজন নেই, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি মেঘ ভেদ করে এসে ত্বকে বলিরেখা ও কালচে দাগ ফেলে। তাই এই মৌসুমে কমপক্ষে ৩০ বা তার বেশি এসপিএফ (SPF) যুক্ত ব্রড-স্পেকترাম ও ওয়াটার-রেজিস্ট্যান্ট সানস্ক্রিন ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি, সপ্তাহে অন্তত এক থেকে দুবার হালকা এক্সফোলিয়েশন বা স্ক্রাবিং করা দরকার। ঘরে তৈরি হলুদ, বেসন এবং যষ্টিমধুর প্রাকৃতিক স্ক্রাব মৃত কোষ দূর করে ত্বক উজ্জ্বল করে। অন্যদিকে, তৈলাক্ত ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নিতে মুলতানি মাটি, গোলাপ জল ও নিম গুঁড়ো দিয়ে তৈরি ফেস প্যাক দারুণ কার্যকর। শুষ্ক ত্বকের অধিকারীরা মুলতানি মাটির বদলে বেসন ও ক্রিমের প্যাক ব্যবহার করে বর্ষায় পেতে পারেন নিখুঁত ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক।