এআই ব্রাউজারের ভয়ঙ্কর ফাঁদ! অজান্তেই আপনার হোয়াটসঅ্যাপ থেকে ছড়িয়ে পড়ছে স্প্যাম মেসেজ?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালিত ব্রাউজার এজেন্টগুলোর মধ্যে মারাত্মক কিছু নিরাপত্তা ত্রুটি বা দুর্বলতা আবিষ্কার করেছেন সাইবার নিরাপত্তা গবেষকরা। এই ত্রুটির সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা খুব সহজেই ব্যবহারকারীদের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কন্টাক্ট লিস্টে থাকা বিভিন্ন নম্বরে ক্ষতিকারক স্প্যাম মেসেজ পাঠিয়ে দিতে পারে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে বিশ্বজুড়ে সাধারণ ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা এবং সাইবার সুরক্ষার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ওপেনএআই, গুগল, অ্যানথ্রপিক, মাইক্রোসফট এবং পারপ্লেক্সিটির মতো শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি এআই ব্রাউজার এজেন্ট এবং ব্রাউজার এক্সটেনশনগুলোতে প্রায় কুড়িটিরও বেশি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি লুকিয়ে রয়েছে। এই ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধীরা সহজেই এআই এজেন্টদের ব্রাউজার সেশন বা নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিতে সক্ষম হচ্ছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই সাইবার হামলার ঘটনায় মেটার জনপ্রিয় ম্যাসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপের মূল এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অক্ষত ও সুরক্ষিত রয়েছে। অর্থাৎ সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপের নিজস্ব সিকিউরিটি সিস্টেমে কোনো ভাঙন ধরায়নি হ্যাকাররা, বরং ব্রাউজারে থাকা এআই এজেন্টের দুর্বলতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এআই ব্রাউজার এজেন্টগুলো ব্যবহারকারীর প্রাত্যহিক ব্রাউজিং কাজকে সহজ করতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ভিজিট ও ডেটা প্রসেস করে থাকে। কিন্তু ক্ষতিকারক প্রম্পট বা কমান্ড ইনজেকশনের মাধ্যমে এই স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমগুলোকে বিভ্রান্ত করে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব। এর ফলে শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপে স্প্যাম পাঠানোই নয়, বরং ইউজারের অজান্তেই গোপনীয় ইন্টারনাল ফাইল ডাউনলোড, পাসওয়ার্ড ম্যানেজার হ্যাক করা কিংবা জনপ্রিয় ই-কমার্স সাইট থেকে অননুমোদিত কেনাকাটার মতো বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতির ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। বর্তমান সময়ে এআই প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধের ধরনও পাল্টে যাচ্ছে। গবেষকরা এই উদ্বেগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন। ওপেনএআইসহ অন্যান্য টেক জায়ান্টগুলো এই প্রম্পট-ইনজেকশন সংক্রান্ত দুর্বলতাগুলো দূর করতে এবং নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছে। তা সত্ত্বেও সাধারণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার স্বার্থে এআই ব্রাউজার ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক থাকার এবং অপ্রয়োজনীয় ব্রাউজার এক্সটেনশন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা