বিড়ি সস্তা, সিগারেট কেন এত দামি? GST-র বৈষম্যের আসল কারণ ফাঁস!

সিগারেট এবং বিড়ি—দুটিই তামাকজাত পণ্য হলেও, নতুন জিএসটি (GST) সংস্কারে এদের উপর ভিন্ন করহার বসানো হয়েছে। সিগারেটকে ৪০ শতাংশ জিএসটির আওতায় আনা হলেও, বিড়ির ক্ষেত্রে তা মাত্র ১৮ শতাংশ। এই বৈষম্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে ভারতের গ্রামীণ অর্থনীতি এবং বিড়ি শ্রমিকদের বাস্তব জীবনযাত্রার হিসাব।

কেন বিড়ির ওপর কম ট্যাক্স?
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ৫০ লক্ষ বিড়ি শ্রমিক রয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই গ্রামীণ এলাকার এবং এদের ৯০ শতাংশই মহিলা। তারা ঘরের কাজ এবং সন্তান পালনের পাশাপাশি ঘরে বসে বিড়ি গুটিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। এই শিল্পে মজুরি অত্যন্ত কম; একজন বিড়ি শ্রমিকের দৈনিক আয় মাত্র কয়েকশো টাকা।

গ্রামীণ জীবিকা রক্ষা: বিড়ির ওপর কম কর বসানোর মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রামীণ বিড়ি শ্রমিকদের জীবন রক্ষা করা। উৎপাদন খরচ কমলে এই শিল্পের চাহিদা বজায় থাকবে এবং শ্রমিকরা কাজ হারাবেন না।

বনভিত্তিক জীবিকা: বিড়ির মোড়ক হিসেবে ব্যবহৃত তেন্দু পাতা সংগ্রহ করা মধ্য ভারতের একটি বড় অংশের মানুষের আয়ের প্রধান উৎস। জিএসটি কম হলে এই বনভিত্তিক জীবিকাও সুরক্ষিত হবে।

সামাজিক বাস্তবতা: বিড়িকে একটি প্রধানত গ্রামীণ ও নিম্নবিত্ত মানুষের পণ্য হিসাবে দেখা হয়, যেখানে সিগারেটের ব্যবহার মূলত শহুরে এবং উচ্চ আয়ের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

সিগারেটের ক্ষেত্রে ভিন্ন করনীতি
সিগারেটের উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ যান্ত্রিক এবং এটি একটি সংগঠিত শিল্প। সিগারেটের ব্যবহার সমাজের অপেক্ষাকৃত উচ্চবিত্ত মানুষের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এর স্বাস্থ্যঝুঁকিও বিড়ির তুলনায় অনেক বেশি। তাই, এর উপর বেশি কর বসিয়ে সরকার একদিকে যেমন রাজস্ব আয় বাড়াতে চাইছে, অন্যদিকে এর ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে চাইছে।

ভবিষ্যৎ কর নীতি
সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে যে, বিড়ি, সিগারেট, গুটখা, জর্দা এবং অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের উপর বর্তমান করহার এবং ক্ষতিপূরণ সেস (Compensation Cess) ততদিন বজায় থাকবে, যতদিন না ক্ষতিপূরণ সেস অ্যাকাউন্টের অধীনে নেওয়া ঋণ ও সুদ সম্পূর্ণ শোধ করা হয়। তাই বিড়ি শ্রমিকদের জন্য নতুন এই কম করের হার কার্যকর হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।