সুন্দরবনে কুমিরের হামলায় মৎস্যজীবী নিখোঁজ, লাহিড়িপুরের দত্ত নদীতে তীব্র চাঞ্চল্য

সুন্দরবনের লাহিড়িপুরের দত্ত নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না এক মৎস্যজীবীর। বৃহস্পতিবার দুপুরে এক বিশাল কুমির তাকে নদীর গভীরে টেনে নিয়ে যায়। এই ঘটনার পর থেকে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হলেও এখনো পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ মেলেনি। নিখোঁজ মৎস্যজীবীর নাম সুনীল মণ্ডল (৫০)।

কী ঘটেছিল সেদিন?
প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার দুপুরেও মাছ–কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন সুনীল। তিনি যখন লাহিড়িপুর পঞ্চায়েতের ট্রিবলিঘেরি এলাকার দত্ত নদীতে জাল ফেলছিলেন, ঠিক তখনই পিছন থেকে একটি বিশাল কুমির তার উপর হামলা চালায়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মাঝি সাধন মণ্ডল বলেন, কুমিরটি সুনীলকে নদীর গভীরে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। তিনি দ্রুত নৌকো নিয়ে এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও সফল হননি। কুমিরের শক্ত চোয়াল থেকে সুনীলকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এরপরই গ্রামে ও থানায় খবর দেওয়া হয়।

চলছে তল্লাশি অভিযান, কিন্তু মেলেনি খোঁজ
খবর পেয়ে বন দফতর, পুলিশ এবং স্থানীয় গ্রামবাসীরা নদীতে যৌথভাবে তল্লাশি শুরু করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালানোর পরেও সুনীলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সন্ধ্যা নেমে এলেও উদ্ধারকাজ বন্ধ হয়নি। সুনীলের নিখোঁজ হওয়ার খবরে তার স্ত্রী অঞ্জলি মণ্ডল ভেঙে পড়েছেন। তিনি বলেন, তার স্বামীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র ভরসা। পরিবারের লোকজন ও গ্রামবাসীরা এখন প্রশাসনের কাছে তার মরদেহ উদ্ধারের আবেদন জানিয়েছেন।

সুন্দরবনের নিত্যদিনের আতঙ্ক
স্থানীয়দের মতে, সুন্দরবনের গ্রামগুলিতে কুমিরের হামলা নতুন কোনো ঘটনা নয়। মাছ বা কাঁকড়া ধরতে গিয়ে প্রায়ই মৎস্যজীবীদের এমন দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হয়। জীবন ও জীবিকার এই দ্বন্দ্ব তাদের প্রতিদিনের সঙ্গী। সুনীল মণ্ডলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।