বিড়ি মুখে ঘরে ঢুকেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু, বেঙ্গালুরুতে পরিযায়ী শ্রমিকদের মর্মান্তিক পরিণতি

কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মর্মান্তিক মৃত্যু হলো মুর্শিদাবাদের চারজন পরিযায়ী শ্রমিকের। গত সোমবার গভীর রাতে গ্যাস সিলিন্ডারের আগুনে গুরুতর দগ্ধ হওয়ার পর থেকে তাঁরা বেঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। চারদিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর বৃহস্পতিবার তাঁদের জীবনাবসান ঘটে। এই খবর গ্রামে পৌঁছতেই নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
মৃতদের পরিচয় ও মৃত্যুর সময়
মৃত চারজনই মুর্শিদাবাদ জেলার বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে হরিহরপাড়া থানা এলাকার জাহিদ আলি (৩৫) এবং বহরমপুর থানা এলাকার সাফিজুল শেখ (৩৫), মিনারুল শেখ (৩৬) ও জিয়াবুর শেখ (৩৫) রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রথমে জাহিদ আলির মৃত্যু হয়। এরপর একে একে মারা যান সাফিজুল ও মিনারুল। বেশ কয়েক ঘণ্টা পর শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন জিয়াবুর শেখ।
কীভাবে ঘটেছিল এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা?
ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার গভীর রাতে কর্ণাটকের রামনগর জেলার বেঙ্গালুরু-মাইসুরু এক্সপ্রেসওয়ের উপরে বিডাডি এলাকায়। জানা গিয়েছে, বেঙ্গালুরুতে কাজের জায়গায় একটি বড় ঘরে সাতজন পরিযায়ী শ্রমিক একসঙ্গে ঘুমিয়েছিলেন। রাতের রান্না শেষ হওয়ার পর কোনোভাবে গ্যাসের উনুন বন্ধ করতে ভুলে গিয়েছিলেন তাঁরা।
রাত প্রায় দুটোর দিকে ওই সাতজনের মধ্যে একজন শ্রমিক শৌচাগার থেকে জলন্ত বিড়ি মুখে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। আর তখনই ঘরে দাউদাউ করে আগুন ধরে যায়। ওই আগুনে পুড়ে সাতজন শ্রমিকই গুরুতর জখম হন। পাশের ঘরে থাকা অন্য পরিযায়ী শ্রমিকরা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় ভিক্টোরিয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন।
মৃত্যুর কারণ ও বাকিদের অবস্থা
মৃত পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই চারজনের শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকেরা চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত তাঁদের বাঁচাতে পারেননি।
মুর্শিদাবাদের যে তিন জন শ্রমিক এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, তাঁরা হলেন – বহরমপুর থানার পাঁচপীরতলার হাসান মল্লিক এবং নগড়াজল টিকটিকিপাড়ার তাজিবুর শেখ ও নূর জামাল শেখ। পরিবারের লোকজনের বক্তব্য, বাকি তিনজনের মধ্যে দু’জনের অবস্থাও এখনো সঙ্কটজনক।
মৃতদেহ ফেরানোর প্রস্তুতি
মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছাতেই মৃতদের বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম। তাঁদের মরদেহ বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুণছেন পরিজনরা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বেঙ্গালুরু হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহগুলি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। মৃতদের পরিবারের কয়েকজন সদস্য ইতিমধ্যেই বেঙ্গালুরুতে পৌঁছেছেন।