বিআরএস অতীত, পুরনো ‘টিআরএস’ ফেরালেন কবিতা: ভাই ও বাবার সাম্রাজ্যে এবার কি বড়সড় ধস?

তেলেঙ্গানার রাজনীতিতে এক মহাপ্রলয় ঘটে গেল। দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজের আলাদা রাজনৈতিক দল ঘোষণা করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও (কেসিআর)-এর কন্যা কালভাকুন্তলা কবিতা। মেদচল জেলার মুনিরাবাদে প্রায় ৫০ হাজার সমর্থকের উপস্থিতিতে তিনি তাঁর নতুন দল ‘তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সেনা’ (TRS)-এর নাম ও পতাকা উন্মোচন করেন।

এই ঘোষণার সাথেই স্পষ্ট হয়ে গেল, বাবা কেসিআর এবং ভাই কেটি রামা রাও (কেটিআর)-এর সঙ্গে কবিতার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও পারিবারিক সম্পর্কের ফাটল এখন এক স্থায়ী বিচ্ছেদে রূপ নিয়েছে।

কেন ‘টিআরএস’ নামেই ফিরলেন কবিতা?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কবিতার এই নাম নির্বাচন অত্যন্ত সুচিন্তিত। ২০০১ সালে কেসিআর যখন তেলেঙ্গানা আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন, তখন দলের নাম ছিল ‘তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি’ (টিআরএস)। ২০২২ সালে জাতীয় রাজনীতির উচ্চাকাঙ্ক্ষায় কেসিআর সেই নাম বদলে ‘ভারত রাষ্ট্র সমিতি’ (বিআরএস) করেন।

কবিতার দাবি, নাম পরিবর্তনের ফলে দল তার আঞ্চলিক শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “বাবা যা বিসর্জন দিয়েছেন, আমি তা পুনরুদ্ধার করতে এসেছি।” মূলত তেলেঙ্গানার আবেগ ও আত্মপরিচয়কে পুঁজি করেই তিনি ফের ‘টিআরএস’ (তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সেনা) সংক্ষিপ্ত রূপটি ফিরিয়ে এনেছেন।

এক নজরে নতুন দলের প্রধান লক্ষ্য:

  • আঞ্চলিক স্বার্থ: জল, জমি এবং কর্মসংস্থানের অধিকার ফিরিয়ে আনা।

  • টার্গেট অডিয়েন্স: রাজ্যের তরুণ সমাজ, নারী এবং কৃষকদের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া।

  • ব্যর্থতার অভিযোগ: বর্তমান কংগ্রেস সরকার এবং বিআরএস—উভয় দলই জনগনের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে কবিতার দাবি।

পারিবারিক যুদ্ধের দামামা?

গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে বিআরএস থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর থেকেই কবিতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। মেদচলের এই বিশাল সমাবেশ প্রমাণ করে দিল যে, কবিতা একা নন; তাঁর পাশে বিশাল এক সমর্থক বাহিনী রয়েছে। বিশেষ করে অধ্যাপক কে জয়শঙ্করের নামে উৎসর্গীকৃত প্রাঙ্গণে এই ঘোষণা তাঁর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেই প্রকাশ করে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy