বারুইপুর কাণ্ডে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ভয়াবহ তথ্য! যৌন নির্যাতন ও খুনের অভিযোগে যুক্ত হল পকসো ধারা

বারুইপুরের নাবালিকা খুনের ঘটনায় তদন্তে এক ভয়াবহ ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে ওই নাবালিকার ওপর যৌন নির্যাতনের ইঙ্গিত স্পষ্ট বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। রবিবার উদ্ধার হওয়া নিথর দেহটির ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উঠে এসেছে চরম নৃশংসতার চিত্র।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যা জানা গেছে: সূত্রের খবর, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নাবালিকার মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল এবং যৌনাঙ্গেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের মতে, তাকে মাথায় আঘাত করে অচেতন করা হয়েছিল। এরপর যখন তাকে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়, তখন সে বেঁচে ছিল। ফুসফুস ও পাকস্থলীতে জল পাওয়ার অর্থ—জলে ডুবেই তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। অর্থাৎ, অজ্ঞান অবস্থায় তাকে জলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
কঠোর আইনি পদক্ষেপ: শুরুতে কেবলমাত্র খুনের মামলা দায়ের করা হলেও, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যৌন হেনস্থার প্রাথমিক প্রমাণ মেলায় পুলিশ মামলার আইনি কাঠামো আরও কঠোর করেছে। এখন এই মামলায় পকসো (POCSO) আইনের কঠোর ধারা যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধর্ষণ (৬৫), গণধর্ষণ (৭০[২]), খুন (১০৩[১]), তথ্যপ্রমাণ লোপাট (২৩৮) এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (৬১) সহ একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা: এই নৃশংস ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন:
এই ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে।
তদন্তের জন্য আইজি পদমর্যাদার আধিকারিকের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT) গঠন করা হয়েছে।
পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা বা দায়িত্বে গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আগামী কাল তিনি নিজে বারুইপুর পরিদর্শনে যাবেন এবং নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলবেন।
তদন্তকারীদের দাবি, নাবালিকার ওপর চালানো এই অমানবিক অত্যাচারের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের কঠোর শাস্তির লক্ষ্যে সমস্ত বৈজ্ঞানিক ও আইনি প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।