বারুইপুরের নির্যাতিতার পাশে আরজি করের চিকিৎসকের মা! বিচারের দাবিতে সরব হয়ে কী বার্তা দিলেন?

রাজ্যে একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনা যেন থামছে না। বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মর্মান্তিক ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ধিক্কারের ঝড় উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আরজি কর হাসপাতালের নিহত চিকিৎসকের মা সরাসরি বারুইপুরের নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। সোমবার পানিহাটি কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিধায়কের কার্যালয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী পালন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এই বার্তা দেন।

তিনি বলেন, “সন্তান হারানোর যে যন্ত্রণা, তা আমি হাড়েমজ্জায় উপলব্ধি করতে পারি। বারুইপুরের ঘটনা নিন্দার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। আমি ওই শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি। তাঁদের চোখের জল আমি মুছতে না পারলেও, বিচারের লড়াইয়ে তাঁদের পাশে থাকব।” তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং রাজ্য সরকারের কাছে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাবেন।

এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত পানিহাটির বিধায়ক রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে তুলোধুনো করেন। তিনি বলেন, “গত ১৫ বছরে তৃণমূল রাজ্যে ‘খেলা-মেলা-মদ’-এর যে অপসংস্কৃতি চাষ করেছে, তারই বিষবৃক্ষ আজ বারুইপুরের মতো ঘটনা হিসেবে প্রকাশ্যে আসছে। সমাজ আজ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। মানুষ তার মানবিক চেতনা হারিয়ে ফেলেছে।” বিধায়কের অভিযোগ, রাজ্যের সরকার প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ব্যর্থ, আর তার ফল ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও নারীদের। গত এক মাসে রাজ্যে পাঁচটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা নারী সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।

বিধায়ক আরও বলেন, “আমরা মাত্র দু’মাস হলো সরকার গঠন করেছি। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন, প্রশাসনকে আরও শক্ত হাতে পরিচালনা করতে হবে। সমাজ কেন মেয়েদের পণ্য হিসেবে গণ্য করবে? কেন এমন নির্মম ঘটনা বারবার ঘটবে? আমি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলব যাতে নির্যাতিতার পরিবার সঠিক বিচার পায়। অপরাধীদের সাজা নিশ্চিত করতে আমাদের সরকার সবরকম আইনি পদক্ষেপ নেবে।”

আরজি কর কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমার নিজের মেয়ের হত্যাকাণ্ডের সময়ও অনেক তথ্যপ্রমাণ লোপাট করে দেওয়া হয়েছিল। বিচার পেতে এখনও আমাকে লড়াই করতে হচ্ছে। ঠিক একইভাবে, বারুইপুরের নিহত মেয়েটির বাবা-মা যাতে ন্যায়বিচার পান, তার জন্য আমি রাস্তায় নেমে আন্দোলন জারি রাখব। বিধানসভাতেও নারী সুরক্ষার ইস্যু নিয়ে আমি সরব হব।”

বারুইপুরের এই জঘন্য অপরাধের প্রতিবাদে কেবল রাজনৈতিক দল নয়, সাধারণ মানুষও আজ একজোট। নির্যাতিতার পরিবারের ন্যায়বিচারের দাবিতে আরজি কর চিকিৎসকের মায়ের এই লড়াই কি কোনো নতুন পথের দিশা দেখাবে? এখন এটাই দেখার বিষয়।