“বাবা পুলিশ বলে কি ছাড় পাবে?” -গৃহবধূ খুনে বিস্ফোরক অভিযোগ! বিচার চাইল বাপের বাড়ি

উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে পণের দাবিতে এক নববধূকে পিটিয়ে মারার অভিযোগে তুলকালাম কাণ্ড। মৃত সুনীতা সরকারের (২৩) পরিবারের পক্ষ থেকে শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনায় স্বামী সৌম্য দত্তকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও, অভিযুক্ত শ্বশুর ও শাশুড়ি এখনও অধরা কেন—এই প্রশ্ন তুলে শুক্রবার কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় অশ্বিনী পল্লি এলাকা।

বাড়িতে ভাঙচুর, থানা ঘেরাও

শুক্রবার বিকেলে সুনীতার বাপের বাড়ির লোক ও পাড়া-প্রতিবেশীরা একটি সুবিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। মিছিলটি যখন অভিযুক্তের বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিল, তখন চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। ক্ষুব্ধ জনতা সৌম্যর বাড়িতে এলোপাথাড়ি ইট বৃষ্টি ও ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। এরপর বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে সোজা বারাসত থানার সামনে পৌঁছান এবং থানা ঘেরাও করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন।

“পুলিশ বাবা আড়াল করছে খুনিদের?”

মৃত সুনীতার পরিবারের অভিযোগ, তাঁর শ্বশুর সুজয় দত্ত পেশায় এক পুলিশ কর্মী। সেই প্রভাব খাটিয়েই মূল অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, “মেয়েটিকে বিয়ের পর থেকেই অকথ্য অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। ব্যবসার নাম করে টাকা চাওয়া হতো। ছেলেটির বাবা পুলিশ বলেই কি শ্বশুর-শাশুড়িকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না?”

ঘটনার প্রেক্ষাপট

বারাসত পুরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুনীতার সঙ্গে মাত্র ৪ মাস আগে বিয়ে হয়েছিল সৌম্য দত্তের। বুধবার রাতে আচমকাই সুনীতার বাপের বাড়িতে খবর দেওয়া হয় যে তিনি অসুস্থ। পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাপের বাড়ির অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে তাঁদের মেয়েকে।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

বিক্ষোভের জেরে বারাসত থানা চত্বরে ব্যাপক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। তবে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও শ্বশুরবাড়ির বাকি সদস্যদের অবিলম্বে গ্রেফতারির দাবিতে অনড় রয়েছে সুনীতার পরিবার। স্থানীয় কাউন্সিলর অসুস্থ থাকায় কোনো মন্তব্য করেননি এবং পুরসভার চেয়ারম্যান বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

বারাসতের এই বধূ হত্যা মামলা এখন খবরের শিরোনামে। আইন কি শেষ পর্যন্ত রক্ষা করতে পারবে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীকে? নজর রাখছে গোটা শহর।

তথ্যসূত্র ও ছবি: এই সময়