“মেটিয়াবুরুজ থেকে রাজাবাজার”—রেকর্ড হারে বার্থ সার্টিফিকেট বিলি! পুরসভার তথ্যে ফাঁস চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট!

ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনী (SIR) ঘিরে যখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি, ঠিক তখনই বিস্ফোরক তথ্য সামনে এল কলকাতা পুরসভা থেকে। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির করা ‘লাগামছাড়া’ বার্থ ও ডেথ সার্টিফিকেট বিলির অভিযোগ এবার কার্যত মান্যতা পেল খোদ পুরসভার পেশ করা রিপোর্টে। বৃহস্পতিবার পুরসভার অধিবেশনে পেশ করা তথ্যে দেখা যাচ্ছে, নির্দিষ্ট কিছু বোরো এলাকায় গত ৫ মাসে শংসাপত্র বিলির সংখ্যা আকাশছোঁয়া।

পুরসভার রিপোর্টে বিতর্কিত তথ্য

চলতি বছরের ১ অগাস্ট থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, যে এলাকাগুলি নিয়ে গেরুয়া শিবির প্রশ্ন তুলেছিল, সেখানেই নথি বিলির হার সবচেয়ে বেশি। গার্ডেনরিচ, মেটিয়াবুরুজ, রাজাবাজার ও তিলজলার মতো এলাকাগুলি এখন আতসকাঁচের তলায়।

এক নজরে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট:

এলাকা/বোরোজন্ম শংসাপত্র (Birth)মৃত্যু শংসাপত্র (Death)প্রধান এলাকা
বোরো ৭১,৩০১টি২৩১টিতিলজলা, তপসিয়া, পার্ক সার্কাস
বোরো ১২৯৮৩টি৫৭৯টিযাদবপুর ও ইএম বাইপাস সংলগ্ন এলাকা
বোরো ১৫৫১৬টি২৮৪টিগার্ডেনরিচ, মেটিয়াবুরুজ
বোরো ৩৯৪৬টি৩১৪টিনারকেলডাঙা, রাজাবাজার
পুর সদর দপ্তর১,৩২৬টি৭০১টিধর্মতলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা

বিজেপির দাবি: ভোটার তালিকা ‘ম্যানিপুলেশন’?

এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। দলের দাবি, মূলত ভোটার তালিকায় নাম তোলার উদ্দেশ্যেই এই বিপুল পরিমাণ জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছে। ১২ নম্বর বোরোর ক্ষেত্রে বিজেপির আরও মারাত্মক অভিযোগ— চিকিৎসার জন্য এসে কলকাতায় ভাড়া বাড়িতে থাকা বহু বাংলাদেশি নাগরিককেও বেআইনিভাবে এই নথি দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর

পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ এই রিপোর্ট পেশ করার পর থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিরোধীদের মতে, একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ককে তুষ্ট করতে এবং লোকসভা নির্বাচনের পর ভোটার লিস্টে রদবদল ঘটাতেই এই পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে। তবে পুর প্রশাসন এই বিষয়ে এখনও তাদের চূড়ান্ত আত্মপক্ষ সমর্থন জানায়নি।

গার্ডেনরিচ থেকে তিলজলা—জন্ম শংসাপত্রের এই রহস্যময় ‘বৃদ্ধির’ নেপথ্যে কি সত্যিই বড় কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে? উত্তরের অপেক্ষায় শহরবাসী।