বিল মেটানোর আগে এই কাজটি করেছেন কি? রেস্তোরাঁর সার্ভিস চার্জ নিয়ে কেন্দ্রের কড়া হুশিয়ারি, চরম বিপাকে মালিকরা!

রেস্তোরাঁয় খাওয়ার পর বিল হাতে পেলেই কি সেখানে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ বা পরিষেবা মাশুল যুক্ত থাকে? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তবে এবার থেকে সাবধান হওয়ার সময় এসেছে। কারণ গ্রাহকদের বিলে জোর করে বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্ভিস চার্জ চাপানোর বিরুদ্ধে রেস্তোরাঁগুলোকে এবার অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন কেন্দ্রীয় ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে সমস্ত রেস্তোরাঁ সরকারি নির্দেশ অমান্য করে এই বেআইনি কাজ চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের আর্থিক জরিমানা এবং প্রকাশ্য সুনামহানি সহ একাধিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রী অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানিয়েছেন যে তিনি এই পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের অবিলম্বে কঠোরতম পদক্ষেপ নেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন।
মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন যে যেসব রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ কোনোভাবেই বন্ধ করবে না, তাদের শুধুমাত্র বিশাল অঙ্কের জরিমানার মুখোমুখিই হতে হবে না, বরং বাজারে তাদের বহুদিনের কষ্টার্জিত খ্যাতি এবং সুনামও চিরতরে নষ্ট হয়ে যাবে। দিল্লি, মুম্বাই এবং বেঙ্গালুরুর মতো দেশের বড় বড় মেট্রোপলিটন শহরগুলিতে এই অন্যায় প্রবণতা বর্তমানে মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। নিজের সাম্প্রতিক একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রহ্লাদ যোশী জানান যে সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে তিনি দেখতে পান তাঁদের খাবারের বিলের সঙ্গে অবৈধভাবে সার্ভিস চার্জ জুড়ে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তাঁর সঙ্গে থাকা বন্ধুরা এই বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও প্রশ্ন তোলার পর রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ তৎক্ষণাৎ সেই চার্জ বিল থেকে বাদ দেয় এবং গ্রাহকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে।
গ্রাহকদের বিলে সার্ভিস চার্জ বা এই জাতীয় যেকোনো অতিরিক্ত ফি স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত করার প্রবণতা বন্ধ করতে দেশের সমস্ত হোটেল ও রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষকে তাদের বিলিং সফটওয়্যার অবিলম্বে সংশোধন করার জোরালো অনুরোধ জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ভোক্তা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ বা সিসিপিএ (CCPA)-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই ধরনের বেআইনিভাবে সার্ভিস চার্জ আদায়ের অপরাধে দেশজুড়ে মোট ৪১টি নামী রেস্তোরাঁ ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলিকে জোর করে বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্ভিস চার্জ আদায় করতে নিষেধ করে সিসিপিএ যে কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছিল, দেশের সম্মানীয় দিল্লি হাইকোর্টও সেই রায় পুরোপুরি বহাল রেখেছে। এমনকি, ভোক্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই আইনি ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে রেস্তোরাঁ মালিকদের করা সমস্ত আবেদন আদালত সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে।
সরকারি তথ্যা অনুযায়ী, এই সমস্ত অভিযুক্ত রেস্তোরাঁগুলির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সিসিপিএ ‘চায়োস (সানশাইন টিহাউস)’-এর ওপর ৫০,০০০ টাকা নগদ জরিমানা ধার্য করেছে এবং সেই সঙ্গে জনৈক অভিযোগকারীর কাছ থেকে বেআইনিভাবে কেটে নেওয়া সার্ভিস চার্জের সমস্ত অর্থ অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া পাটনার জনপ্রিয় ‘ক্যাফে ব্লু বটল’, ‘চায়না গেট রেস্তোরাঁ’, ‘ফিয়েস্তা বারবিকিউ নেশন’, ‘ফু আহমেদাবাদ রেস্তোরাঁ’, ‘ল’অপেরা ফ্রেঞ্চ বেকারি’, ‘জোরো’ এবং ‘দ্য লাক্সারি নাইট ক্লাব’-সহ আরও একাধিক নামী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
সাধারণ ক্রেতা ও গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী পরামর্শ দিয়েছেন যে এই ধরনের বেআইনি ঘটনার মুখোমুখি হলে তাঁদের চুপ না থেকে অবিলম্বে প্রতিবাদ করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভোক্তা সুরক্ষা আইন, ২০১৯-এর ধারা ২(৪৭) অনুযায়ী খাবারের বিলের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে কোনো সার্ভিস ফি বা চার্জ আদায় করা একটি সম্পূর্ণ অন্যায্য ও বেআইনি ব্যবসায়িক অনুশীলন। তাই দেশবাসীকে অনুরোধ করা হচ্ছে যে এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে তারা যেন অবিলম্বে প্রয়োজনীয় সমস্ত বিবরণসহ ইমেলের মাধ্যমে কিংবা সরাসরি জাতীয় ভোক্তা হেল্পলাইন নম্বরে (১৯১৫) ফোন করে সরাসরি মন্ত্রককে বিষয়টি জানান। পরিশেষে মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে দেন যে, কোনো সন্তুষ্ট গ্রাহক কর্তৃক স্বেচ্ছায় রেস্তোরাঁর কর্মীকে দেওয়া টিপ এবং একটি বাণিজ্যিক রেস্তোরাঁর পক্ষ থেকে বিলে চাপিয়ে দেওয়া বাধ্যতামূলক সার্ভিস চার্জের মধ্যে বিরাট ফারাক রয়েছে, এবং পরেরটি দেশের প্রচলিত আইনের চোখে সম্পূর্ণ অবৈধ।