কলকাতায় বিশ্বের বৃহত্তম দই কারখানা! ‘বিধানসভা জয়ের উপহার’ ঘোষণা অমিত শাহের

রাজ্যে পালাবদলের পর শিল্পায়নের পথে নতুন সরকার। রবিবার খাস কলকাতায় বিশ্বের বৃহত্তম মিষ্টি দই কারখানার শিলান্যাস করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আমূল (Amul) ফেডারেশনের এই মেগা প্রজেক্ট রাজ্যের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গেম-চেঞ্জার হতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

মিষ্টি দইয়ে মুখ মিষ্টি: বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের প্রসঙ্গ টেনে অমিত শাহ বলেন, “বঙ্গ নির্বাচনের বিজয়ের পর, মোদীজির পক্ষ থেকে আমি মিষ্টি দই খাইয়ে বাংলার মানুষকে উপহার দিতে এসেছি।” এদিন অনুষ্ঠান মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করেন শাহ। তিনি জানান, শিল্প স্থাপনের জন্য আমূলকে কোনো খরচ ছাড়াই ৩০ একর জমি প্রদান করেছে নতুন সরকার।

প্রকল্পের বিশেষত্ব:

  • উৎপাদন ক্ষমতা: প্রতিদিন ১০ লক্ষ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণ করা হবে এই কারখানায়।

  • লাভবান হবেন কারা: রাজ্যের প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার ক্ষুদ্র দুগ্ধ উৎপাদক ও পশুপালক সরাসরি উপকৃত হবেন।

  • সমবায় মডেল: দেশের ৩৬ লক্ষ মহিলার স্বনির্ভর হওয়ার গল্পের উদাহরণ টেনে শাহ জানান, এই মডেলই এবার বাংলায় প্রয়োগ করা হবে।

পশুপালকদের জন্য বড় ঘোষণা: রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আগামী ১৫ বছরের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি পরিবারকে উন্নত প্রজাতির দুটি গবাদি পশু দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি, যা দুধের উৎপাদন ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া কলকাতার ট্যাক্সি চালকদের স্বাবলম্বী করতে ‘ভারত ট্যাক্সি’ নামে এক নতুন সমবায় মডেলও চালু করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বার্তা: এদিন পূর্বতন বাম ও তৃণমূল সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অমিত শাহ। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘসময় ধরে ভুল নীতি ও দুর্নীতির জালে সোনার বাংলা নষ্ট হয়েছে। তবে এখন রাজ্যের হারানো গৌরব ফেরানোই লক্ষ্য। পাশাপাশি রাজ্যের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অনুপ্রবেশ রোধে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

একদিকে শিল্পায়ন, অন্যদিকে কর্মসংস্থান—কলকাতায় এই নতুন দই কারখানা বাংলার শিল্পক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল কি না, সেদিকেই এখন নজর সকলের।