রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বাজেটে ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) বৃদ্ধির ঘোষণা করা হলেও, ১ এপ্রিল পেরিয়ে যাওয়ার পরও তার বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি নবান্ন। মে মাসের বেতন হাতে পেতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি, অথচ বর্ধিত ডিএ কবে থেকে কার্যকর হবে তা নিয়ে শুরু হয়েছে প্রশাসনিক টানাপোড়েন। এই অচলাবস্থার জন্য এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দিকেই আঙুল তুলল রাজ্য সরকার।
কমিশনের অনুমতির অপেক্ষায় নবান্ন
সূত্রের খবর, নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct) কার্যকর থাকার কারণে রাজ্য সরকার সরাসরি কোনও আর্থিক সুবিধা ঘোষণা করতে পারছে না। বর্ধিত হারে ডিএ দিতে চেয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (CEO) চিঠি পাঠিয়েছেন মুখ্যসচিব। রাজ্য প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, ডিএ কার্যকর করার জন্য কমিশনের চূড়ান্ত অনুমতির প্রয়োজন। সেই চিঠির উত্তর এখনও না আসায় ফাইলটি নবান্নের টেবিলে ঝুলে রয়েছে। সিইও দপ্তর জানিয়েছে, বিষয়টি দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশ্বাস
বাজেটে ৪ শতাংশ ডিএ ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক জনসভা থেকে কর্মীদের আশ্বস্ত করেছেন। গত শনিবার সোনারপুরের সভা থেকেও তিনি বলেন, “বাজেটে যে ৪ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করা হয়েছে, তা শীঘ্রই দিয়ে দেওয়া হবে।” এই বৃদ্ধির ফলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মোট ডিএ-র পরিমাণ ১৮ শতাংশ থেকে বেড়ে হবে ২২ শতাংশ।
বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু
এদিকে, ৪ শতাংশ নতুন ডিএ নিয়ে টালবাহানা চললেও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে বকেয়া মেটানোর কাজ এগিয়ে রাখছে রাজ্য। নবান্ন সূত্রের খবর, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের বকেয়া ডিএ পরিশোধের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের এই বকেয়া পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার কাজ চলছে দ্রুত গতিতে।
তবে আপাতত রাজ্য সরকারি কর্মীদের নজর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে। দিল্লি থেকে সবুজ সংকেত এলেই মে মাসের বর্ধিত বেতনের রাস্তা পরিষ্কার হবে, নতুবা ভোট মিটলে তবেই অ্যাকাউন্টে ঢুকবে অতিরিক্ত অর্থ।





