নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর তোড়জোড়! রাজ্যসভায় ফের জমা পড়ল ইমপিচমেন্ট নোটিস, তুঙ্গে সংঘাত!

২০২৬-এর হাইভোল্টেজ নির্বাচনের আবহে ফের অগ্নিগর্ভ জাতীয় রাজনীতি। ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-কে পদ থেকে অপসারণের দাবিতে নজিরবিহীনভাবে সরব হলো বিরোধীরা। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) রাজ্যসভায় বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ফের ইমপিচমেন্ট (Impeachment) বা অভিশংসনের নোটিস জমা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশন— সর্বত্রই শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

কেন এই অপসারণের দাবি?

বিরোধীদের পক্ষ থেকে তোলা অভিযোগগুলি অত্যন্ত গুরুতর। নোটিসে মূলত তিনটি কারণ দর্শানো হয়েছে:

  • নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন: বিরোধীদের দাবি, নির্বাচন কমিশনার ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছেন এবং বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন।

  • ভোট প্রক্রিয়ায় অসচ্ছতা: ইভিএম (EVM) এবং ভিভিপ্যাট (VVPAT) সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগে কমিশন কর্ণপাত করেনি বলে দাবি ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের শরিকদের।

  • অভিযোগ গ্রহণে অনীহা: নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের একাধিক অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনো কড়া পদক্ষেপ না করার প্রতিবাদেই এই ইমপিচমেন্টের পথে হেঁটেছেন বিরোধীরা।

ইমপিচমেন্টের পদ্ধতি কী?

ভারতের নির্বাচন কমিশনারকে সরানো খুব একটা সহজ কাজ নয়। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির মতোই তাঁকে সরাতে গেলে: ১. সংসদের যে কোনো কক্ষে নোটিস জমা দিতে হয়। ২. বিশেষ কমিটির তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ (Two-third) সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রস্তাব পাস হতে হয়। ৩. এরপর রাষ্ট্রপতির সই হলে তবেই পদচ্যুতি সম্ভব।

সরকার ও কমিশনের প্রতিক্রিয়া

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে ‘ভোটের বাজারে সস্তা রাজনীতি’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। বিজেপির দাবি, নির্বাচনে হার নিশ্চিত বুঝেই বিরোধীরা এখন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ করে জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়াতে চাইছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো সরকারি বিবৃতি আসেনি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy