কলকাতায় বসে ‘জিও-হটস্টার’ চুরি! শহর থেকে চলছিল জালি ওটিটি অ্যাপ, পর্দা ফাঁস করল লালবাজার

তিলোত্তমায় বসে চলছিল এক বিশাল ডিজিটাল সাম্রাজ্য, কিন্তু তা আইনের চোখে ধুলো দিয়ে। জিও-হটস্টার (JioHotstar)-এর মতো নামী ওটিটি প্ল্যাটফর্মের প্রিমিয়াম কন্টেন্ট পাইরেসি করে দেখানো হচ্ছিল একটি অবৈধ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে। কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখার তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত ফাঁস হলো সেই জালিয়াতির ছক।

১৪ অগাস্ট ২০২৫: সেই বিস্ফোরক অভিযোগ

ঘটনার সূত্রপাত গত বছর। ২০২৫ সালের ১৪ অগাস্ট কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগে একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগটি করেছিলেন স্টার ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড এবং জিও-র আইনি প্রতিনিধিরা। অভিযোগে জানানো হয়েছিল:

  • অবৈধ স্ট্রিমিং: একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ (যার সার্ভার কলকাতা থেকে নিয়ন্ত্রিত) বেআইনিভাবে জিও-হটস্টারের সমস্ত এক্সক্লুসিভ সিনেমা, ওয়েব সিরিজ এবং লাইভ স্পোর্টস সম্প্রচার করছে।

  • বিশাল আর্থিক ক্ষতি: এই পাইরেসির ফলে মূল সংস্থাগুলির কোটি কোটি টাকার সাবস্ক্রিপশন লোকসান হচ্ছে।

  • ডেটা চুরি: এই জালি অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের ফোনে ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে দিয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও সন্দেহ করা হয়।

কীভাবে চলত এই ‘ডিজিটাল ডাকাতি’?

তদন্তে নেমে লালবাজারের সাইবার গোয়েন্দারা জানতে পারেন, কলকাতার কসবা এবং সল্টলেক এলাকায় ডেরা গেঁথেছিল এই চক্রটি। তারা উন্নত মানের এনকোডার ব্যবহার করে আসল প্ল্যাটফর্ম থেকে ফিড চুরি করত এবং সামান্য কয়েক টাকার বিনিময়ে বা বিজ্ঞাপনের লোভে তা সাধারণ মানুষকে দেখাত।

পুলিশি অভিযানে কী হলো?

অভিযোগ পাওয়ার পর মাস কয়েকের নিবিড় তদন্ত এবং ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট অনুসরণ করে পুলিশ এই চক্রের মাস্টারমাইন্ডদের হদিস পায়। ১. গ্রেফতার: কলকাতা ও শহরতলি থেকে ৩ জন সফটওয়্যার ডেভেলপারকে গ্রেফতার করা হয়। ২. বাজেয়াপ্ত: তাঁদের ডেরা থেকে একাধিক হাই-এন্ড সার্ভার, ল্যাপটপ এবং ওটিটি কন্টেন্ট চুরির বিশেষ ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। ৩. অ্যাপ বন্ধ: পুলিশের নির্দেশে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তায় সেই অবৈধ অ্যাপটি গুগল প্লে-স্টোর ও অন্যান্য সাইট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy