২০২৬-এর মেগা ফাইনালের আগে শেষ মুহূর্তের প্রচারে সরগরম বাংলা। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে এক বর্ণাঢ্য নির্বাচনী সভায় উপস্থিত হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন তাঁর বক্তব্যে যেমন ছিল শাসকদলের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি, তেমনই ছিল ‘অভয়া’ (আরজি কর কাণ্ড)-র পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা।
‘নেভার আগে জ্বলে ওঠে প্রদীপ’— মোদীর নিশানায় তৃণমূল
রাজ্যে প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই বিজেপি শিবিরের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। এদিন পানিহাটির জনসভা থেকে মোদী দাবি করেন, তৃণমূল এখন তাদের হার নিশ্চিত বুঝতে পেরে হিংসার আশ্রয় নিচ্ছে। তিনি বলেন:
“তৃণমূল আজ পাগল হয়ে গিয়েছে। পরাজয়ের ভয়ে ওরা দিশেহারা। প্রদীপ নেভার আগে যেমন দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে, তৃণমূলের এই আস্ফালনও ঠিক তেমনই। ওরা ভয় পাচ্ছে কারণ ৪ মে-র পর বাংলায় বিজেপির সূর্যোদয় নিশ্চিত।”
অভয়ার মায়ের পাশে প্রধানমন্ত্রী
এদিনের সভার অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত ছিল আরজি কর কাণ্ডে নিহত চিকিৎসকের (‘অভয়া’) মায়ের প্রসঙ্গ। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি সেই মর্মান্তিক ঘটনার বিচার না পাওয়ার ক্ষোভ উস্কে দিয়ে বলেন, মা-বোনেদের নিরাপত্তা দিতে এই সরকার ব্যর্থ। তিনি অভয়ার মায়ের যন্ত্রণার কথা উল্লেখ করে প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে নারীদের সুরক্ষা হবে প্রথম অগ্রাধিকার এবং অপরাধীদের কোনোভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না।
৪ মে-র ‘ডেডলাইন’ ও জয়ের গ্যারান্টি
প্রধানমন্ত্রী এদিন অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে পানিহাটির মানুষের কাছে দাবি করেন:
জয়ের ব্যবধান: বিজেপি এবার বাংলায় রেকর্ড ভোটে জয়ী হবে।
বিজেপি সরকার: ৪ মে ফল প্রকাশের পরেই বাংলায় ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কাজ শুরু হবে।
দুর্নীতির বিনাশ: তৃণমূলের দুর্নীতিবাজ নেতাদের দিন ঘনিয়ে এসেছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
তৃণমূলের পাল্টা প্রতিক্রিয়া
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে পালটা জানানো হয়েছে যে, পানিহাটির মানুষ উন্নয়নের সঙ্গেই আছেন এবং মোদীর এই ‘প্রদীপ নেভার’ তত্ত্ব আসলে তাঁরই রাজনৈতিক কল্পনা।





