একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্ব কি এক নতুন ধরণের ঠান্ডা লড়াইয়ের (Cold War) সাক্ষী হতে চলেছে? কোনো মিসাইল বা সরাসরি যুদ্ধ নয়, এবার লড়াইয়ের কেন্দ্রে সরাসরি ‘মস্তিষ্ক’। গত কয়েক মাসে আমেরিকা ও চিনে অন্তত ২০ জন প্রথম সারির বিজ্ঞানীর রহস্যজনক মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা মহলে হইচই ফেলে দিয়েছে। গবেষকদের দাবি, এটি কেবল কাকতালীয় নয়, বরং এক সুপরিকল্পিত ‘সায়েন্টিফিক কোল্ড ওয়ার’-এর সংকেত হতে পারে।
আমেরিকার ১১ জন বিজ্ঞানীর রহস্যময় পরিণতি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ১১ জন পরমাণু, মহাকাশ এবং এআই (AI) বিশেষজ্ঞ হয় খুন হয়েছেন, নয়তো রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ। এফবিআই (FBI) ইতিমধ্যেই এই বিষয়টিকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার ওপর আঘাত’ বলে চিহ্নিত করেছে। উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলি হলো:
কার্ল গ্রিলমেয়ার ও নুনো লরুইরো: দুই বিশিষ্ট পরমাণু ও অ্যাস্ট্রোফিজিক্স গবেষককে তাঁদের বাড়ির সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
নীল ম্যাককাসল্যান্ড: মার্কিন বায়ুসেনার অবসরপ্রাপ্ত এই মেজর জেনারেল এবং মহাকাশ বিজ্ঞানী হঠাৎই বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান।
মনিকা রেজা: নাসার (NASA) এই এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার পাহাড়ে হাইকিং করতে গিয়ে নিরুদ্দেশ হন, যা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।
চিনের ৯ জন বিশেষজ্ঞের ‘অস্বাভাবিক’ মৃত্যু
একই চিত্র ধরা পড়েছে বেজিং-এর ডায়েরিতেও। গত ৩ বছরে চিনের অন্তত ৯ জন বিজ্ঞানী মারা গিয়েছেন।
ফেং ইয়াংহে: চিনের সামরিক এআই এবং হাইপারসনিক অস্ত্রের নেপথ্যে থাকা এই ৩৮ বছর বয়সী প্রতিভাধর গবেষক একটি ‘রহস্যময়’ গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।
চিনা সংবাদমাধ্যমে এই মৃত্যুগুলোকে ‘দুর্ঘটনা’ বা ‘অসুস্থতা’ বলা হলেও, আইবি টাইমস (IBTimes)-এর মতো সংস্থাগুলি একে পরিকল্পিত ‘মেধা নিধন’ বলে সন্দেহ করছে।
কেন এই ‘টার্গেট কিলিং’?
বিশেষজ্ঞ পর্ণা সেনগুপ্তের রিপোর্টে উঠে আসছে এক হাড়হিম করা তথ্য। বর্তমানে প্রযুক্তি ও সামরিক শক্তির শীর্ষে পৌঁছাতে দেশগুলি একে অপরের উদ্ভাবনী ক্ষমতা কমিয়ে দিতে চাইছে। ১. প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি রুখে দেওয়া: হাইপারসনিক উইপন বা উন্নত পরমাণু শক্তির গবেষণাকে পিছিয়ে দিতে মূল মাথাদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ২. এআই যুদ্ধ: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লড়াইয়ে এগিয়ে থাকতে প্রতিপক্ষ দেশের বিজ্ঞানীদের ভয় দেখানো বা গুম করে দেওয়া হচ্ছে। ৩. ইন্টেলিজেন্স ওয়ার: দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে ‘টেরিটোরিয়াল স্পাইং’-এর অভিযোগ তুলছে।





