“জিতবে কে, ঠিক করবে ভাগ্য!”-EVM-এর যুগেও কেন টস করে বেছে নেওয়া হয় বিজয়ী প্রার্থীকে?

রাজনীতিতে শেষ কথা বলে জনমত। কিন্তু সেই জনমত যদি হুবহু সমান ভাগে ভাগ হয়ে যায়? ধরুন, ভোট গণনার শেষে দেখা গেল যুযুধান দুই প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট একদম এক। তখন কী হবে? আবার কি ভোট হবে? না কি অন্য কোনো অঙ্ক আছে? ভারতের নির্বাচনী আইন বলছে, এমন পরিস্থিতিতে শেষমেশ প্রার্থীর ‘ভাগ্য’ বা ‘কপালই’ ঠিক করে দেয় তিনি বিধানসভা বা সংসদে যাবেন কি না।

কী বলছে ভারতের আইন? রিপ্রেজেনটেশন অফ পিপলস অ্যাক্ট (জনপ্রতিনিধিত্ব আইন)-এর ১০২ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যদি কোনও আসনে দুই বা ততোধিক প্রার্থীর মধ্যে ভোটের লড়াই ‘টাই’ হয়, তবে জয়ী নির্ধারণ করতে লটারি বা টসের সাহায্য নেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, টস বা লটারিতে যিনি জয়ী হন, ধরে নেওয়া হয় তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে একটি অতিরিক্ত ভোট পেয়েছেন। অর্থাৎ, ইভিএমের যুগেও শেষ কথা বলে একটি কয়েন বা এক টুকরো কাগজ।

ভারতের ইতিহাসে ‘টাই-ব্রেকার’-এর নজির: শুনতে আজব মনে হলেও ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন ঘটনা বেশ কয়েকবার ঘটেছে:

  • ২০১৮ সালের অসম পঞ্চায়েত নির্বাচন: একটি বা দুটি নয়, অসমের ৬টি কেন্দ্রে প্রার্থীদের মধ্যে টাই হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত টসের মাধ্যমেই বিজয়ীদের বেছে নিতে হয়।

  • ২০১৭ মথুরা-বৃন্দাবন পুরসভা: ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি প্রার্থী মীরা আগরওয়াল এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস প্রার্থী— দু’জনেই ঠিক ৮৭৪টি করে ভোট পেয়েছিলেন। টস ভাগ্য সহায় ছিল বিজেপির, হেরে যান কংগ্রেস প্রার্থী।

  • মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (২০১৭): ২২০ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি প্রার্থী অতুল শাহ এবং শিবসেনার সুরেন্দ্র বাগলকারের মধ্যে তুমুল লড়াই হয়। তিন বার গণনার পরও দেখা যায় দু’জনের ভোট সমান। শেষ পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে জয়ী হন অতুল শাহ।

পদ্ধতি নিয়ে ধোঁয়াশা: বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতিতে খামতিও রয়েছে। যদি দু’জনের জায়গায় তিন জন প্রার্থী সমান ভোট পান, তবে টস কীভাবে হবে? যদিও এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা লাখে এক বার, তবুও নির্বাচনী আইনে এই ‘টাই-ব্রেকার’ পদ্ধতি আজও এক চরম নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি করে।

২০২৬-এর হাইভোল্টেজ নির্বাচনে কি বাংলার কোনও কেন্দ্রে দেখা যাবে এমন স্নায়ুচাপ বাড়ানো লটারি? উত্তর লুকিয়ে আছে গণনার বাক্সে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy