বাজারে এসবিআই মিউচুয়াল ফান্ডের দুর্দান্ত এন্ট্রি! আইপিওতেই পকেটে এল মোটা টাকা, হু হু করে বাড়ল শেয়ারের দাম

ভারতীয় শেয়ার বাজারে নতুন ইতিহাস তৈরি করে আত্মপ্রকাশ করল দেশের অন্যতম বৃহৎ ফান্ড হাউস ‘এসবিআই ফান্ডস ম্যানেজমেন্ট’-এর বহু প্রতীক্ষিত শেয়ার। মঙ্গলবার পতনমুখী ও শ্লথ বাজারের প্রতিকূল পরিবেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দুর্দান্ত ডেবিউ করল এই সংস্থাটি। প্রায় ৯,৮১৩ কোটি টাকার এই বিশাল প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও নিয়ে শুরু থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম উৎসাহ ও উন্মাদনা লক্ষ করা গিয়েছিল। নির্ধারিত ইস্যু মূল্য ৫৭৪ টাকার বিপরীতে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে (বিএসই) শেয়ারটি ৬১০ টাকায় অর্থাৎ প্রায় ৭ শতাংশ প্রিমিয়ামে তালিকাভুক্ত হয়। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে (এনএসই) ৬১৩.৩০ টাকায় শেয়ারটির ট্রেডিং শুরু হয়, যা বিনিয়োগকারীদের প্রাথমিক প্রত্যাশাকে অনেকটাই পরিপূর্ণ করেছে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, তালিকাভুক্তির আগে গ্রে মার্কেটে (জিএমপি) শেয়ারটির দাম প্রায় ৯৭ টাকা পর্যন্ত প্রিমিয়াম দেখিয়েছিল, যার ফলে আনুমানিক লিস্টিং প্রাইস প্রায় ৬৭১ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছিল। যদিও প্রকৃত তালিকাভুক্তি গ্রে মার্কেটের সেই অতি-উচ্ছ্বসিত প্রত্যাশার তুলনায় সামান্য কম হয়েছে, তবুও বর্তমান সেনসেক্স ও নিফটির রক্তক্ষয়ী পতনের বাজারে এই পারফরম্যান্সকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলেই মনে করছেন অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা। সকালের দিকে বিএসই-তে এসবিআই ফান্ডস ম্যানেজমেন্টের শেয়ার ইস্যু মূল্যের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে ৬১৭.৫০ টাকায় লেনদেন করতে দেখা যায়। একসময় ইন্ট্রা-ডে ট্রেডিংয়ে শেয়ারটির দাম সর্বোচ্চ ৬২৪.৮০ টাকা পর্যন্ত ছুঁয়ে ফেলেছিল। একই ছবি দেখা গেছে এনএসই-তেও, যেখানে শেয়ারটি প্রায় ৯ শতাংশ পর্যন্ত লাফিয়ে ৬২৪.৮০ টাকার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়।
উল্লেখ্য, যেদিন এই মেগা আইপিও শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হয়, সেদিন সামগ্রিক বাজার পরিবেশ ছিল যথেষ্ট উদ্বেগজনক। লেনদেন শুরু হতেই সেনসেক্স এবং নিফটি উভয় সূচকই নিম্নমুখী প্রবণতার শিকার হয়। সেনসেক্স প্রায় ২১৫ পয়েন্ট খসে পড়ে ৭৭,৪৯৩.০৩ পয়েন্টের কোঠায় নেমে আসে এবং নিফটি ৫০ সূচকও ২৪,১৮৮ পয়েন্টের কাছাকাছি চলে যায়। এমন এক ভ্লাটাইল ও চাপযুক্ত বাজারের মধ্যেও এসবিআই ফান্ডস ম্যানেজমেন্টের শেয়ারের এই শক্তিশালী অবস্থান প্রমাণ করে যে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই ব্র্যান্ডের প্রতি অগাধ আস্থা রয়েছে। গত ১৪ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত খোলা এই আইপিওটি সার্বিকভাবে প্রায় ৪১.৬৬ গুণ সাবস্ক্রিপশন অর্জন করে বাজারের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দেয়।
বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (QIB) পক্ষ থেকে এই আইপিওতে অবিশ্বাস্য রকমের চাহিদা দেখা গেছে, যা ১৪০.১১ গুণ পর্যন্ত সাবস্ক্রাইব হয়েছিল। এছাড়াও নন-ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টর (NII) ক্যাটাগরিতে ২২.৫১ গুণ এবং সাধারণ খুচরো বিনিয়োগকারী (RII) বা রিটেইল বিভাগে ৩.৬০ গুণেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। ৫৪৫ টাকা থেকে ৫৭৪ টাকা প্রতি শেয়ার মূল্য নির্ধারণ করা এই সম্পূর্ণ আইপিওটি ছিল একটি ‘অফার ফর সেল’ (OFS) ভিত্তিক। অর্থাৎ স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (এসবিআই) এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠান আমুন্ডি নিজেদের হাতে থাকা মোট ১৭১ মিলিয়ন শেয়ার এই অফারের মাধ্যমে বিক্রি করেছে। যেহেতু কোনো নতুন ইক্যুইটি শেয়ার ইস্যু করা হয়নি, তাই এই অফারিং থেকে আসা যাবতীয় অর্থ সরাসরি কোম্পানির কোষাগারে না গিয়ে বিক্রেতা শেয়ারহোল্ডারদের কাছেই জমা হয়েছে। এই ঐতিহাসিক লিস্টিংয়ের ফলে কোম্পানির পাবলিক শেয়ারহোল্ডিং বেড়ে ১০.২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে শেয়ারের লেনদেন বা তারল্য আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।