রাস্তায় নামল টাটার বহুপ্রতীক্ষিত রহস্যময় ইলেকট্রিক গাড়ি! এক চার্জে ছুটবে ৭০০ কিমি, জানুন বিশদ বিবরণ

বহু বছর ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা টাটা মোটরসের অত্যন্ত বিলাসবহুল এবং ভবিষ্যৎমুখী প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক ভেহিকেল ‘টাটা আভিনিয়া’ অবশেষে ভারতীয় রাস্তায় পরীক্ষামূলকভাবে চলাকালীন ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। ২০২২ সালে প্রথমবার একটি আকর্ষণীয় কনসেপ্ট হিসেবে এই গাড়িটি প্রকাশ্যে এসেছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার এর প্রথম প্রোডাকশন মডেলটিকে ভারতীয় রাজপথে টেস্টিং করতে দেখা গেল, যা পরিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে কনসেপ্ট থেকে বাস্তবে রূপ নেওয়ার প্রক্রিয়া এখন অন্তিম পর্যায়ে রয়েছে। আভিনিয়া এক্স নামে পরিচিত এই প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক এসইউভিটি আগামী ২০২৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। গাড়িপ্রেমী ও প্রযুক্তি অনুরাগীদের মধ্যে এই গাড়িটিকে ঘিরে এখন থেকেই উন্মাদনার পারদ চড়তে শুরু করেছে।

গাড়িওয়াড়ির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরীক্ষামূলকভাবে চলাকালীন স্পট করা গাড়িটি সম্পূর্ণভাবে ভারী ছদ্মবেশে বা ক্যামোফ্লাজে ঢাকা ছিল, যার ফলে এর খুঁটিনাটি ডিজাইন এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে গাড়িটির সামগ্রিক কাঠামো ও অনুপাত দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, প্রোডাকশন মডেলটি মূলত আভিনিয়া এক্স কনসেপ্টের অত্যন্ত মসৃণ, অ্যারোডাইনামিক এবং ফিউচারিস্টিক ডিজাইন ল্যাঙ্গুয়েজ বজায় রাখবে। এসইউভিটিতে একটি দীর্ঘ হুইলবেস এবং তুলনামূলকভাবে বেশ নিচু ছাদ বা রুফ-লাইন রাখা হয়েছে। অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্রোডাকশনের চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার জন্য টাটা হয়তো কনসেপ্ট সংস্করণের কিছু নাটকীয় ও জটিল উপাদান কিছুটা পরিমিত করতে পারে, কিন্তু তা সত্ত্বেও সামগ্রিক উপস্থিতির দিক থেকে বর্তমান টাটার যেকোনো ইভি মডেলের তুলনায় আভিনিয়াকে অনেক বেশি প্রিমিয়াম ও আকর্ষণীয় দেখাবে।

টাটা মোটরসের দীর্ঘমেয়াদী ইলেকট্রিক ভেহিকেল কৌশলে এই আভিনিয়া এক বিরাট ও যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে চলেছে। শুরুর দিকে টাটা এই গাড়িটিকে জেএলআর-এর ইএমএ (EMA) আর্কিটেকচারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করার পরিকল্পনা করেছিল। তবে সাম্প্রতিক নির্ভরযোগ্য তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আসন্ন এই প্রিমিয়াম মডেলটি মূলত চেরি এবং জেএলআর-এর যৌথ সহযোগিতায় নির্মিত ফ্রিল্যান্ডার প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি করা হবে। ভারতীয় বাজারের কথা মাথায় রেখে টাটা এই নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মের ইলেকট্রনিক্স এবং ইন-কার সফটওয়্যারে নতুন করে ব্যাপক কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ফিউচারিস্টিক ইলেকট্রিক এসইউভিটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তামিলনাড়ুর পানপাক্কামে অবস্থিত টাটা মোটরসের অত্যাধুনিক নতুন কারখানায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা হবে।

ব্যাটারি এবং এর শক্তিশালী পাওয়ারট্রেনের সুনির্দিষ্ট কারিগরি স্পেসিফিকেশনগুলো এখনও সম্পূর্ণভাবে গোপন রাখা হলেও, শিল্প মহলের অনুমান অনুযায়ী এই গাড়িতে ৭৫ থেকে ৯৫ কিলোওয়াট-আওয়ার (kWh) ক্ষমতার একটি বিশাল ব্যাটারি প্যাক দেওয়া হতে পারে। ড্রাইভিং রেঞ্জের কথা বলতে গেলে, এই প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক এসইউভিটি একবার সম্পূর্ণ চার্জেই প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার পর্যন্ত অবিশ্বাস্য দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া গাড়িটির টপ-স্পেক বা উচ্চতর ভ্যারিয়েন্টগুলোতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেওয়ার জন্য একটি ডুয়াল-মোটর অল-হুইল-ড্রাইভ (AWD) সেটআপও উপলব্ধ থাকবে, যা প্রিমিয়াম ইভি বাজারের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।