সংসদ ঘেরাও ঘিরে রণক্ষেত্র দিল্লি! নিট কাণ্ডে পুলিশি লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসে তুলকালাম, আহত বহু

রাজধানী দিল্লির বুকে সোমবার নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক অভূতপূর্ব ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দিল্লির ঐতিহ্যবাহী যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে আসছিল ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র সমর্থক ও শিক্ষার্থীরা। কিন্তু সোমবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যখন এই বিশাল বিক্ষোভকারী দল সরাসরি সংসদ ভবন অভিমুখে অগ্রসর হতে শুরু করে। আন্দোলনকারীদের ঠেকাতে পুলিশ প্রশাসন আগে থেকেই তৎপর ছিল এবং সংসদের প্রধান ফটক সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে ছাত্র-যুবকরা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বাধা দেয়, যার ফলে মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে দিল্লি পুলিশ চরম বলপ্রয়োগ করে। প্রথমে ব্যাপক লাঠিচার্জ করা হয় এবং এর পরেই ঘন ঘন কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করা হয়। পুলিশের এই নির্মম ও কঠোর পদক্ষেপে একদিকে যেমন বহু ছাত্রছাত্রী গুরুতর জখম হন, তেমনই অন্যদিকে তেড়ে আসা আন্দোলনকারীদের প্রতিরোধে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীও মারাত্মকভাবে আহত হন। সরকারি ও পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, সোমবারের এই দীর্ঘস্থায়ী ও হিংসাত্মক সংঘর্ষে ৬০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থী এবং ১০০ জনেরও বেশি পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনার পর দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট ধারায় একাধিক এফআইআর (FIR) দায়ের করে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তেলাপোকা জনতা পার্টির নেতৃত্বে চলা এই সুদীর্ঘ প্রতিবাদের পেছনে মূলত তিনটি প্রধান ও জোরালো দাবি রয়েছে। প্রথমত, নিট প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুককে দ্রুত হাসপাতাল থেকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। এবং তৃতীয়ত, প্রশ্নফাঁসের জেরে মানসিক অবসাদে ভুগে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হওয়া নিহত নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে অবিলম্বে উপযুক্ত এক কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। এই বহুমুখী দাবিতে আয়োজিত আন্দোলন ঘিরে এখনও পুরো রাজধানীতে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং প্রশাসন বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।